
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের কুশলপুর দাখিল মাদ্রাসা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম পাশের নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের শীলগ্রাম (দুবইল) এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশলপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাম্মেল হকের কাছে টাকা দাবি করেন আরিফুল। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একপর্যায়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আরিফুলের দাবি, টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কারণ দেখিয়ে তিনি মাদ্রাসার সুপারের কাছে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মাদ্রাসার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা আরিফুলকে মাদ্রাসা চত্বরে আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সেখানে জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, আরিফুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। শীলগ্রাম দুবইল এলাকার মহসিন দাবি করেন, কিছুদিন আগে তার প্রায় ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি পিরপাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আরিফুলকে দায়ী করেন।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, আরিফুলের আচরণ মারমুখী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনার সময় আরিফুলের কাঁধে গামছা ও হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল—এমন ছবি সংবাদকর্মীদের হাতে এসেছে। তবে ঘটনাস্থলে তার কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা আরিফুলকে মারধর করেছে। তার আগে চিকিৎসা প্রয়োজন। মাদ্রাসার সুপার মামলা করতে চাইলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।







