
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সর্বস্ব হারানো দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেলালের পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, চারটি কম্বল, ২০ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি লবণ ও এক লিটার সয়াবিন তেল দেওয়া হয়েছে।
এদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব সহায়তা দেওয়া হয়। এর আগে সাংবাদিকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দ্রুত অফিসে আসতে বলা হয়।
তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়ে হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন। দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া কামনা করেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকার ফরাদপুর গ্রামের সাদ্দামপাড়ায় হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বসতঘরে। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে একটি ছাগল মারা যায় এবং গাভীন একটি গরু গুরুতর দগ্ধ হয়।
এ ছাড়া পরিবারের উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন একটি রিকশা-ভ্যান, ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, মেয়ের পড়ার বই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিত্যব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত রিকশা-ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং মারা যাওয়া ছাগলটির মূল্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পরিবার।
অগ্নিকাণ্ডে হেলালের স্ত্রীও দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রেমতলী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আগুনে বসতঘর ও সম্পদ হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন দিনমজুর হেলাল উদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক এবং ইউএনও ইসরাত জাহান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাঠানোর পর সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে আরও সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সহায়তা পেয়ে হেলালের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর পুনর্নির্মাণ, দগ্ধ গরুর চিকিৎসা এবং রিকশা-ভ্যানটি মেরামতের জন্য এখনও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। ফলে পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।







