
নিউজ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বুধবার (স্থানীয় সময়) টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন তিনি।
চার দিনের সরকারি সফরে ড. ইউনূস বুধবার দুপুর ২টা ৫ মিনিটে টোকিও পৌঁছান। সফরকালে তিনি নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
তারো আসো বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ড. ইউনূসের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে:
১. কাঠামোগত সংস্কার
২. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
৩. অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সাবেক সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, যার ফলে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই তরুণদের আহ্বানেই আমি এই দায়িত্ব নিয়েছি।’
তিনি জাপানের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত দশ মাসে জাপান আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে। এক অর্থে, এটি একটি কৃতজ্ঞতা সফর।’
ড. ইউনূস তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র দেখতে পারেন।
সাক্ষাতে অংশ নেওয়া জাপানি সংসদ সদস্যরা বলেন, আসন্ন ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) চুক্তি জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। বাংলাদেশ আশা করছে, আগস্টের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সেপ্টেম্বরেই চুক্তিটি স্বাক্ষর করা যাবে, ফলে জাপান হবে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা চলাকালে ড. ইউনূস বলেন, এ সংকট অন্যান্য শরণার্থী সংকটের চেয়ে ভিন্ন। রোহিঙ্গারা অন্যত্র যেতে চায় না, বরং নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চায়। তিনি এই সংকট সমাধানে জাপানের সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।