
নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং কক্সবাজার উপকূলে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। গত তিন দিন ধরে চলছে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, যার ফলে স্থানীয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
টানা বৃষ্টিতে আজ সকালে মানুষ কাজে বের হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে। পর্যটন শহর কক্সবাজারে সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন লাল পতাকা উড়িয়ে সতর্ক করেছে। সাগরে গোসলে নামা থেকে বিরত থাকতে মাইকিং করে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এমন আবহাওয়া আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সকালে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত সব নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিনে চার দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন:
বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথের যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল। ফলে দ্বীপের বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটে পড়েছেন।
সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রশিদ আহমদ জানান, সাগর উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই কারণে পণ্যবাহী ট্রলারও দ্বীপে পৌঁছাতে পারছে না।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “দ্বীপে কাঁচাবাজার একপ্রকার শেষ। অন্যান্য ভোগ্যপণ্যও আজ-আগামীকাল শেষ হয়ে যাবে। বাজারে যেটুকু আছে, তার দাম খুব বেশি। দ্বীপবাসী চরম অসহায় অবস্থায় আছে।”
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৩ নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় এখনই চলাচল শুরু করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যোগাযোগ চালু হবে।