
নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঠিয়া উপজেলার মাসিক ও আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আমের হাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বানেশ্বর ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক থেকে আমের হাট সরিয়ে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড় থেকে চারঘাট রোড এলাকায় হাট বসানো হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম নুর হোসেন নির্ঝর জানান। নতুন হাট আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হবে।
রাজশাহীর পুঠিয়াসহ আশপাশের এলাকার গুটি জাতের আম বিক্রির মৌসুম শুরু হয়েছে। এ বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় দাম কম থাকায় আম চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
মহাসড়কে আমের হাট বসার কারণে গত কয়েক দিন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বাসচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার উপর আমের হাটের কারণে বেলপুকুর চেক পোস্ট থেকে শিবপুর বাজার পর্যন্ত সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে।
বানেশ্বর হাট পুঠিয়া ও রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার। এখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আম আসে। গুটি আমের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গোপালভোগ ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা, লখনা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, রাণীপছন্দ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, ল্যাংড়া ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং হিমসাগর ১২০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
তবে আমের দাম কমে যাওয়ায় বাগান মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, আড়তদাররা অতিরিক্ত ওজন কেটে নিচ্ছেন। কেউ কিছু বললে আম ফেরত দেওয়ার হুমকি দেয়ার ফলে চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করছেন।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম নুর হোসেন নির্ঝর বলেন, যানজট নিরসনে আমের হাট স্থানান্তর করা হচ্ছে। চারঘাট রোডে হাট বসালে মহাসড়কে যানজট কমে যাবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে।
চলতি বছর পুঠিয়া উপজেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।