
নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : মা-বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে প্রবাসে গিয়ে স্বাবলম্বী হবে। ভিনদেশী মেয়েকে বিয়ে করে নতুন বউকে হেলিকপ্টারে করে ঘরে নিয়ে আসবেন। মা-বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাকিবুল ইসলাম রকেট। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হেলিকপ্টারে করেই গ্রামে ফিরেছেন রাকিবুল ইসলাম রকেট। সাথে ভিনদেশী স্ত্রী ও ফুটফুটে কন্যা সন্তানকেও নিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের স্বজনরা ছাড়াও পুরো গ্রামে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পালশা গ্রামে মেঘনা এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টারে নিজ গ্রামে অবতরণ করেন রাকিবুল ও তার পরিবার। হেলিকপ্টার থেকে নেমে সরাসরি পৌঁছান গ্রামের পালশা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। সেখানে স্বজনদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হোন রাকিবুল। পরিবারের স্বজনরা ছাড়াও অপেক্ষা করছিলেন আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
রাকিবুল পালশা গ্রামের আব্দুর রশিদ প্রামাণিক ও রাফিয়া বেগমের ছেলে। সাত বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান শ্রমিক হিসেবে। প্রবাস জীবনের শুরুর দিকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করলেও পরবর্তীতে সেখানে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন। মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন পাঁচ বছর আগে পরিচয় হয় কম্বোডিয়ান এক তরুণীর সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং একপর্যায়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
রাকিবুলের বড় ভাই রাসেল রানা বলেন, আমাদের মা-বাবার বহুদিনের ইচ্ছা ছিল, রকেট যেন একদিন হেলিকপ্টারে করে প্রবাসী বউ নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরে। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।
স্থানীয় বাসিন্দা মেরাজুল ইসলাম জানান, রকেট যখন মালয়েশিয়ায় যান, তখন সাধারণ শ্রমিক ছিলেন। এখন তিনি নিজেই সেখানে একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার এমন ফিরে আসায় পুরো গ্রামে আনন্দের জোয়ার বইছে।
রাকিবুলের মা রাফিয়া বেগম আবেগে বলেন, সাত বছর পর ছেলেকে বউ-সন্তানসহ হেলিকপ্টারে বাড়িতে আসতে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমার বহুদিনের স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম রকেট বলেন, ২০১৮ সালে আমি মালয়েশিয়ায় যাই। শুরুটা কঠিন ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেছি। মা-বাবা সবসময় চেয়েছেন, আমি যেন বউ-সন্তান নিয়ে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরি। তাদের সেই স্বপ্ন আজ পূরণ করলাম। এই গ্রাম, এই গ্রামের মানুষ, গ্রামের মনোরম পরিবেশ সবকিছু অনেক মিস করতাম। দেশে ফিরে আপনজনদের ভালোবাসা পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। এই আনন্দঘন আয়োজন শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো গ্রামবাসীর কাছেও হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয় মুহূর্ত।