
নিউজ ডেস্ক : দেশের ৭ হাজার ১০০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৪১ লাখ ২ হাজার টাকার বিশেষ অনুদান দিচ্ছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখার উপসচিব লিউজা-উল-জান্নাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘বিশেষ অনুদান’ খাতে বরাদ্দের অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৪ হাজার ৪৭ জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থী এবং ২ হাজার ৭০২ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
বিতরণ কাঠামো অনুযায়ী-
১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ১ লাখ টাকা
২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা
৪ হাজার ৪৭ জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থী প্রত্যেকে ৮ হাজার টাকা করে মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থী প্রত্যেকে ৯ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা
স্নাতক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ১ হাজার ২৭৪ জন শিক্ষার্থী প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাবেন।
অর্থ বিতরণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। আর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অর্থ ‘নগদ’ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদান বরাদ্দে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
নীতিমালায় জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে ৯ সদস্যের জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার নির্দেশনা ছিল।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুদান বাছাইয়ে অগ্রাধিকার পেয়েছে- অনগ্রসর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিক্ষক-কর্মচারী, এবং দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ করে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস, পক্ষাঘাত, বক্ষব্যাধি, কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের জন্যও অনুদান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, “সরকার শিক্ষাকে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে।