
নিজস্ব প্রতিবেদক : জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজশাহীর আদালত চত্বরে এক শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিবি পুলিশের তৎপরতায় ওই শিক্ষক প্রাণে রক্ষা পান।
বাগমারা উপজেলার গঙ্গানারায়ণপুর গ্রামের সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশীদ (পিতা: মৃত কাউসার আলী প্রাং) ও তার ভাই প্রভাষক মো. সুমন আলী প্রাং ও মো. মুরশেদ হোসেন গত ১৮ জুন (বুধবার) রাজশাহী কোর্টে হাজিরা দিতে যান। আদালত থেকে ফেরার পথে কোর্ট একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় মামুন অর রশীদকে ঘিরে ‘ছিনতাইকারী’ বলে জনতা উত্তেজিত করে ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একই গ্রামের প্রতিপক্ষ নাইমুর রহমান দূর্জয় ও তার ভাই শাহরিয়ার আলম সবুজ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে লোকজন এনে মামুন অর রশীদের পথরোধ করে এবং তাকে মারধর শুরু করে। এসময় তার পকেট থেকে জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল (নং: রাজশাহী ল-১১-৯৪৪৫) ভেঙে ফেলে অচল করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিবি পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করেন।
প্রভাষক সুমন আলী জানান, “আমরা বিএনপি সমর্থিত পরিবার। আমাদের পিতা ছিলেন গণিপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের উপর একাধিকবার হামলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গত ৫ এপ্রিল কুমানীতলা বাজার এলাকায় রমজানের মিলাদ মাহফিল নিয়ে আলোচনার সময়ও প্রতিপক্ষের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। এতে মামুন অর রশীদসহ আরও দুই ভাই গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পরদিন বাগমারা থানায় মামলা (নং-১২/২০২৪) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ৮ এপ্রিল প্রতিপক্ষ নাইমুর রহমানের মা নাজমা খাতুন বাদী হয়ে পাল্টা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২১/১৪৮), যেখানে ওই পরিবারের চার ভাইসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।
সম্প্রতি কোর্টে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় মামুন অর রশীদকে ফের হামলার শিকার করতে চেষ্টার বিষয়টিকে পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান সুমন আলী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
#ম/শি#।