
সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির শিকার ৩২ শতাংশ নাগরিক
নিউজ ডেস্ক : গত এক বছরে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে দেশের ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বলে সরকারি জরিপে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে’ শীর্ষক এ জরিপের প্রাথমিক ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। বিবিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক রাশেদ-ই-মাসতাহাব ফল উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ৬৪ জেলার ১ হাজার ৯২০টি নমুনা ইউনিট থেকে ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়। এতে এসডিজি ১৬–এর আওতায় নিরাপত্তা, সুশাসন, সেবা, দুর্নীতি, ন্যায়বিচার ও বৈষম্য ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, সরকারি সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির হার পুরুষদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, নারীদের মধ্যে ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ–বিআরটিএ’র বিরুদ্ধে। সংস্থাটিতে সেবা নিতে গিয়ে ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সেবা নিতে গিয়ে ৬১ দশমিক ৯৪ শতাংশ মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪ দশমিক ৯২ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন।
রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও চিত্র আশানুরূপ নয়। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলামেলা মতামত প্রকাশ করতে পারেন। শহর এলাকায় এ হার ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং গ্রামে ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
নারীরা এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে আরও পিছিয়ে। প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে মাত্র ২৩ দশমিক ২ জন রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে এ হার ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ কম। মাত্র ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ নারী মনে করেন, তারা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারেন, যেখানে পুরুষদের মধ্যে এ হার ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
নিরাপত্তা বিষয়ে জরিপ বলছে, দেশের ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, সন্ধ্যার পর নিজ এলাকায় একা চলাফেরা নিরাপদ। তবে পুরুষদের মধ্যে এ অনুভূতি ৮৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ হলেও নারীদের মধ্যে তা ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি অনিরাপদ বোধ করেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশের ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ মানুষ বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নারীদের মধ্যে এই হার ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, পুরুষদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে বৈষম্যের হার (২২ দশমিক ০১ শতাংশ) গ্রামাঞ্চলের (১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ) চেয়ে বেশি।
বৈষম্যের স্থান হিসেবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে পরিবার (৪৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ), গণপরিবহন বা উন্মুক্ত স্থান (৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ) এবং কর্মস্থল (২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ)।
#ম/শি#।