
স্টাফ রিপোর্টার : ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। কোথাও স্বস্তি নেই। ভোর কিংবা রাতেও গরমের তেজ কমছে না। কয়েকদিন ধরেই এমন গরম পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। রাজশাহীসহ দেশজুড়ে চলা ভ্যাপসা গরম ১৭ জুনের আগে কমছেনা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। আর ১৭ তারিখের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়ে গরম কিছুটা কমতে পারে। কয়েকদিন ধরেই উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ। এমন তথ্যই জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিন উত্তর অঞ্চলসহ সারাদেশে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। বুধবার থেকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে ১৭ তারিখের পর সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৯০ শতাংশ হওয়াতে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ভ্যাপসা গরমের কারণে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। মাঠে ঘাটে কোথাও তারা কাজ করতে পারছেন না দীর্ঘ সময়।
রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকার ভ্যান চালক জসিম উদ্দিন বলেন, এই গরমের মধ্যে গাড়ি (ভ্যান) নিয়ে বাইরে থাকাটাই কষ্ট। ছুটির দিনে রাস্তায় মানুষ কম থাকলেও অসম্ভব গরম পড়ছে। তীব্র তাপে ঘেমে জামা ভিজে আবার শুকাচ্ছে। তবুও কাজ তো করতেই হবে। না হয় খাবো কি?
রাজশাহী শালবাগান এলাকায় বোতলে ভরা পানিতে স্যালাইন ও ট্যাং মেশাচ্ছিলেন রিক্সাচালক মতিউর। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটু রিক্সা চালালেই মুখ শুকিয়ে যায়। শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝড়ে। তাই বাসা থেকে পানি নিয়ে এসেছি। এখন স্যালাইন ও ট্যাং গুলিয়ে খাবো। গরমে অন্য কোনো খাবার খেতে মন চায় না। ছুটির দিন হওয়ায় যাত্রী কম, এরপরও পেটের দায়ে আমাদের তো রাস্তায় থাকতে হয়।
রাজশাহীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা আজাদ আবুল কালাম বলেন, এত গরমে যে বাতাস বইছে সেটাতেও গরম। ছুটির দিনে রাস্তায় যানজট নেই, তবুও বাসে উঠে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। একটু বৃষ্টি না হলে আর স্বস্তি নেই।