1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বিএনপিতে কোন্দলে, গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত নেতারা

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

ডিবিসি নিউজ ডেস্ক: বরিশাল বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা আটটি। এর মধ্যে ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীতে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি আছে। বাকি সব জেলাই মেয়াদোত্তীর্ণ। কোনো কোনো জেলায় আট বছর থেকে একযুগেও কমিটি নেই। ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন এই বিভাগে ১৯ জন এমপি ছিলেন। এরপর দু-চারজন ছাড়া ওয়ান-ইলেভেনে সবাই সংস্কারপন্থিদের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর ২০০৮ সালে তারা আবারও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান। এ সময় থেকেই তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অধিকাংশ এমপি প্রার্থীরই দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও ঘুরেফিরে তারাই দলের মনোনয়ন নেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এখনো বিএনপির এসব নেতার দূরত্ব রয়েছে। এ কারণে পুরো বিভাগেই বিএনপি এখন অগোছালো। নেতা-কর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল লেগেই আছে।

শুধু বরিশাল বিভাগেই নয়, সারা দেশেই বিএনপির সাংগঠনিক চালচিত্র প্রায় একই রকম। বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখন প্রায় থমকে আছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও এর অধীনে থাকা পৌর-থানা-উপজেলাসহ সব ইউনিটে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এ জন্য করোনাভাইরাসসহ নানা অজুহাতও তুলে ধরা হচ্ছে। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও বাড়ছে। করোনার জন্য সরাসরি সভা করা সম্ভব না হলেও ভার্চুয়ালের মাধ্যমে বিএনপির সব পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের দাবি তাদের।

অবশ্য বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক মাহবুবুল হক নান্নু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিসহ সরকারের দমন-পীড়নের কারণেই সংগঠনগুলো গোছানো যাচ্ছে না। তারপরও আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অন্য বিভাগের চেয়ে বরিশালে সংগঠন পরিচালনা করা একটু কঠিন। এখানে দু-চারজন একসঙ্গে হলেই আওয়ামী লীগ ও তাদের মদদপুষ্ট পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করেই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

জানা যায়, বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে বেশির ভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে ৩১ জেলা শাখায় রয়েছে আহ্বায়ক কমিটি। মাদারীপুরের জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি জেলায় নতুন কমিটি দেওয়া হয়। দল পুনর্গঠন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলায় তিন মাসের জন্য প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। তারা ইউনিয়ন-থানাসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অথবা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বের করবেন। সবশেষে জেলা কাউন্সিল করে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। মার্চের আগেই সব জেলার পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। পরে মার্চের যে কোনো দিন দলের কাউন্সিল করারও চিন্তা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে যেভাবে ধীরগতিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে, তাতে আগামী মার্চে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা কঠিন হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। চলমান বাস্তবতায় এখন সংগঠন পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো কঠিন। তারপরও আমরা তৃণমূল গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তৃণমূল কমিটি করতে গেলে সরকারি দল ও স্থানীয় প্রশাসনের বাধাও আসে। তারপরও নানা প্রতিকূলতায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, দুই বছর ধরে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দেখভাল করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে ঢাকা থেকে বিএনপির দু-একজন প্রভাবশালী নেতার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরাও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু গত দুই বছরে কয়েকটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি ছাড়া আর কিছ্ইু হয়নি। দেশের কোথাও সম্মেলন হয়নি। তারেক রহমান যতক্ষণ সাংগঠনিক কার্যক্রম মনিটর করেন ততক্ষণই সচল থাকেন নেতারা। এরপর থমকে যায় কার্যক্রম। এ ছাড়া সাংগঠনিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা নিজের পছন্দসই ব্যক্তিদের কমিটিতে চান। কারও কারও বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আছে। এসব কারণে কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে অধিকাংশ সাবেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের দ্বন্দ্ব এখনো বিদ্যমান। জেলা পর্যায়ের নেতারা থাকেন ঢাকায়। তাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দূরত্ব আছে। এসব নানা কারণে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। হাতেগোনা দু-চারজন ছাড়া  বিএনপির ৫০২ সদস্যের ঢাউস কমিটির অধিকাংশ নেতারই কোনো কাজ নেই। এদের বড় একটি অংশই আন্দোলন-সংগ্রামেও মাঠে থাকেন না।

এদিকে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মাঠ পর্যায়ে বেশকিছু কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কিন্তু এসব কমিটি গঠন করতে গিয়েও হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগই সফল করতে পারছে না দলের হাইকমান্ড। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি দলটির। যে প্রক্রিয়ায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চেয়েছেন, তাতে এতদিনে অনেক জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কথা। দলের মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের বাইরে ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিও গঠন হয়ে যাওয়ার কথা। কার্যত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তৃণমূল বিএনপির পুনর্গঠনের কাজ চলছে। কিন্তু গতিটা কমে গেছে, এটা ঠিক। এর বাস্তবতাও আছে। সরাসরি উপস্থিত থেকে সবাইকে নিয়ে হয়তো হচ্ছে না। তবে অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠনের কাজ কিন্তু থেমে নেই।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন