
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এবার ভারতে বিজেপির লাগাতার বিক্ষোভের মুখে গতকাল রবিবার পদত্যাগ করলেন দিল্লি সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মন্ত্রী রাজেন্দ্র পাল গৌতম। গত শুক্রবার একটি ধর্মান্তর সভায় গিয়ে হিন্দু দেবতাদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল আম আদমি পার্টির এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তীব্র সমালোচনার সঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিল বিজেপি।
এদিকে ভারতের সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তার ধর্মান্তরের দিনটিকে স্মরণ করে ‘ধর্ম চক্র প্রবর্তন দিন’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ৫ অক্টোবর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজেন্দ্র। প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করে হাজার হাজার মানুষ বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। অনুষ্ঠানে আম্বেদকরের ২২টি বাণী উচ্চারণ করেন রাজেন্দ্রসহ উপস্থিত জনতা।
এই ২২টি বাণীর মধ্যে রয়েছে হিন্দু দেবতাকে অস্বীকার করার বাণী। সকলের সঙ্গে রাজেন্দ্রও এই বাণীগুলো উচ্চারণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর-কোনো দেবতার প্রতিই আমার বিশ্বাস নেই। তাই আমি কারোরই উপাসনা করি না।’ রাজেন্দ্রর এই বাণী উচ্চারণের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। আম আদমি পার্টির মন্ত্রীর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র নিন্দা করে বিজেপি।
এদিকে বিজেপির দাবি, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের অপমান করেছেন রাজেন্দ্র। সেই সঙ্গে হিন্দু বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগের অভিযোগে দিল্লির সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সেই নিয়ে কারো অসুবিধা হচ্ছে কেন? সংবিধানে সব ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা রয়েছে।’
সরকারি ভাবে এ ঘটনা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি আম আদমি পার্টি। তবে এক সূত্রে জানা গেছে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল পুরো ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ। মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেও বিজেপিকেই দোষ দিচ্ছেন রাজেন্দ্র। তিনি বলেছেন, ‘দেশের কয়েক কোটি মানুষ এই শপথ নেন। কিন্তু এ নিয়ে বিজেপি অযথা অশান্তি তৈরি করছে। আমাকে ও আমার দলকে অপমান করার চেষ্টা করছে।’ সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।