1. info235@noreply0.com : corinnevick93 :
  2. : admin :
  3. info239@noreply0.com : jerome6977 :
  4. modlraju58@gmail.com : raju019 :
নেতৃত্বহীনতার দুশ্চক্রে রাজশাহী জেলা বিএনপি - ডিবিসি জার্নাল২৪
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দুর্গাপুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে মাছচাষ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দিনমজুরের করুন মৃত্যু! দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা দুর্গাপুরে ‎স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার বাঘার সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জমি নিয়ে বিরোধে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দুর্গাপুরে সেই শিশু ধর্ষণ ঘটনায় মামলা নিলেও এজাহারে অসঙ্গতি, আলামত নষ্ট করতেই কালক্ষেপণ জাতীয় মঞ্চে লড়বে বাঘার শাহদৌলা সরকারি কলেজের স্বপ্নবাজ তিন শিক্ষার্থী দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাগমারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘায় বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি আবু সাঈদ চাঁদ

নেতৃত্বহীনতার দুশ্চক্রে রাজশাহী জেলা বিএনপি

  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছয় বছর ধরে একটি অস্থায়ী কমিটি থাকা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি।

 নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজশাহী জেলার রাজনীতি যেন এক দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার নাম। যে কমিটি মাত্র তিন মাসের জন্য অনুমোদন পেয়েছিল, তার বয়স এখন ছয় বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিটির মেয়াদ পার হয়েছে, কিন্তু নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়েছে এক জায়গায়- তা হলো নেতৃত্বের চরিত্র।
অস্থায়ী কমিটির ছত্রছায়ায় থেকে একটি গোষ্ঠী পুরো জেলা বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, মনোপলি সিদ্ধান্ত আর ত্যাগী-পরিশ্রমী কর্মীদের প্রতি অবহেলা আজ দলের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই দীর্ঘ ছয় বছরে রাজশাহী জেলা বিএনপি কার্যত এক ‘ব্যক্তিবিশেষের ক্লাবে’ পরিণত হয়েছে।

২০১৯ সালে ৪ জুলাই রাজশাহী জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল মাত্র তিন মাসের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত সস্মেলনের আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার তো দূরের কথা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।

একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার নিজেদের ক্ষমতার বলয়ে রাখতেই নতুন কমিটি গঠন হতে দিচ্ছেন না। উপরন্তু, কমিটি থাকার পরেও তৃণমূলের ত্যাগীদের সঙ্গে নেই কোনো যোগাযোগ, নেই রাজনৈতিক কর্মসূচি। শুধু ব্যক্তিস্বার্থ আর পদ-ব্যবসার রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন তারা।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে,
বিগত কয়েক বছরে রাজশাহীর রাজপথে জেলা বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন চোখে পড়েনি। কেন্দ্র থেকে যত কর্মসূচিই আসুক, জেলা পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন কিংবা তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হিসেবে জেলা কমিটির স্থবিরতা ও নেতৃত্বের একচ্ছত্র কর্তৃত্বকেই দায়ী করছেন সক্রিয় কর্মীরা।
তাদের ভাষ্য, ‘‘একই ব্যক্তিরা বছরের পর বছর ধরে দলের দায়িত্বে থেকে নিজেদেরই প্রতিষ্ঠিত করছেন। নতুন কেউ সামনে এলে তাকে নানা কৌশলে ঠেকিয়ে দেয়া হয়। এতে রাজশাহী জেলার রাজনীতিতে বিএনপি হারাচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো, হারাচ্ছে কর্মীশক্তি।’’
জেলার অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, জেলার বেশকিছু ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের নামে পকেট কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এতে যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতারা বাদ পড়েছন। সুযোগ পেয়েছেন ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাবাদীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “একমাত্র দলীয় আনুগত্য নয়, কারা ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা দিতে পারবে সেটিই পদ-পদবীর ক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে উঠেছিল। এতে রাজনৈতিক কর্মী তৈরির যে ধারাবাহিকতা ছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে। আজ যারা রাজশাহী জেলা বিএনপির নামধারী নেতা, তারা মূলত ব্যবসায়ী-উন্নয়ন প্রকল্প আর তদবিরের রাজনীতিতেই অভ্যস্ত।”
‘‘রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতৃত্ব সংকটে শুধু স্থানীয় নেতারা নন, কম দায়ী নন কেন্দ্রীয়রাও। বারবার জেলা কমিটি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি এলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্র। মাঝে একাধিকবার কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বৈঠকে জেলা কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হলেও তা আটকে গেছে নানা লবিং-তদবিরে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
কেন্দ্রীয় নেতাদের অনীহা এবং তদবিরের কাছে নতি স্বীকারের প্রবণতা না পাল্টালে বিএনপির জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রাণ ফিরবে না। রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছয় বছর ধরে একটি অস্থায়ী কমিটি থাকা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি।

তাদের মতে, বিএনপির জন্য ২০২৫ সালই নয়, সামনের বছরগুলোও হবে কঠিন পরীক্ষা। সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তার আগে সংগঠন পুনর্গঠন না হলে বিএনপি রাজশাহীতে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে ত্যাগী, জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। নেতৃত্বে তরুণ, উদ্যমী এবং রাজপথের কর্মীদের জায়গা দিতে হবে। পুরনো, ক্লান্ত, তদবিরবাজ নেতৃত্বকে অবসরে পাঠাতে হবে। নয়তো যে ক্ষোভ ইতিমধ্যেই নেতাকর্মীদের মনে জমেছে, তা একদিন বিস্ফোরিত হবেই। সেই বিস্ফোরণ দলকে শুধু রাজশাহীতে নয়, জাতীয় পর্যায়েও বড় ধাক্কা দিতে পারে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের নেতৃবৃন্দের এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং নীতিগতভাবে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে কে কোন পদে থাকবেন- সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থের জায়গা নয়; এটি ত্যাগ, শ্রম আর মানুষের ভালোবাসা অর্জনের লড়াই। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি এখনও এসব অনুধাবন না করে, তবে সময় তাদের জন্যই শত্রু হয়ে উঠবে।
রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতাদের এখনই সরে গিয়ে ত্যাগীদের পথ করে দেয়া উচিত। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও উচিত, অবিলম্বে এই কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ অধ্যায় বন্ধ করে নতুন নেতৃত্বের সূচনা করা। তা না হলে বিএনপির রাজশাহীর রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চারঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ রাজনীতির মাঠে এক পরিচিত নাম। তবে রাজনৈতিক পরিচিতির চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অধিক পরিচিত হয়েছেন তার ভাষাগত সমস্যা ও কথার অস্পষ্টতার কারণে। তার বক্তব্যের শৈলী, বাচনভঙ্গি ও শব্দচয়ন প্রায়ই ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে, যা তাকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এ নিয়ে নিজ দল ও বিরোধী মহল, দুই পক্ষেরই প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
আবু সাঈদ চাঁদের বক্তৃতার ধরন খুবই স্বতঃস্ফূর্ত, তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শুদ্ধ উচ্চারণের ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত। এতে তার শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন এবং বক্তব্যের কাঠামোতে শৈথিল্য স্পষ্ট। ফলে জটিল রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনেক সময় অর্থের বিকৃতি ঘটে।

রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষার টান, আবেগঘন ভঙ্গি এবং প্রায়ই অর্ধেক বলা বাক্য তার বক্তব্যকে বিতর্কিত করে তোলে। বহুবার তার বক্তব্যের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রমনের শিকার হয়েছেন। ফলে চাঁদ নিজেও একাধিকবার বলেন, “আমি ঠিকভাবে কথাই বলতে পারি না, তাই সবাই ভুল বুঝে। আমি যা বলতে চাই, তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারি না।”
২০২৩ সালের ১৯ মে পুঠিয়া উপজেলা বানেশ্বর বাজারে বিএনপির জনসভায় আবু সাঈদ চাঁদ বক্তব্য দেন- ‘‘শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠাতে হবে।” তার এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। যদিও পরে চাঁদ দাবি করেন, তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ ও মূলার্থ অন্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি ‘ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে’ বলতে গিয়ে ভুল শব্দচয়ন করেন। এ নিয়ে একাধিক মামলা, পুলিশি হয়রানি, গ্রেপ্তার এবং ১৩ মাসের কারাভোগ তাকে বহন করতে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাও হয়েছে।
বিএনপির অভ্যন্তরেও আবু সাঈদ চাঁদের ভাষাগত দুর্বলতা নিয়ে অসন্তোষ আছে। অনেক নেতার মতে, তার বক্তব্য দলের বিরুদ্ধে ঘুরে যায়। তার আবেগপ্রবণতা ও অসাবধানতাকে কেন্দ্র করে বিরোধীপক্ষ বারবার আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে।

রাজশাহীর এক সিনিয়র নেতা বলেন, “আবু সাঈদ চাঁদ রাজনীতিতে ত্যাগী হলেও তার ভাষাগত দুর্বলতা আজ বড় সংকট। রাজনৈতিক বক্তৃতায় কৌশল থাকা দরকার। আবেগ দিয়ে সব জায়গায় কাজ চলে না। চাঁদের কথা দলের পক্ষে গেলে ভালো, বিপক্ষে গেলে বিপদ।”

রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার সম্প্রতি সময় তার কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক আচরণ, আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি ব্যবহারের মতো নানা ঘটনা নিয়ে রাজশাহী বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত রয়েছে সমালোচনা।
জেলা মহিলা দলের এক নেত্রী অভিযোগ করেছেন, বিশ্বনাথ সরকার তাকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব, অশালীন মন্তব্য ও ফোনে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও বিশ্বনাথ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অডিও এডিট করে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” তা সত্ত্বেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সম্প্রতি বিশ্বনাথ সরকারকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সুনন্দন দাস রতনের গাড়িতে যেতে দেখা যায়। বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজেও উঠে এসেছে। বিএনপি নেতার আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে যাতায়াত দলের ভেতরেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদিও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে গাড়িচালক স্বীকার করেছেন গাড়িটি আওয়ামী লীগ নেতার।
এতসব বিতর্কের পরও বিশ্বনাথ সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে এখনও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে জেলা বিএনপির ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের মতে, এ ধরনের নেতারা দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছেন, তাই দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: ATOZ IT HOST