
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণকে সঞ্চয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী বছর দুর্ভিক্ষের সঙ্গে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে, সে জন্য দেশের মানুষকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।
জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বের অনেকের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবাই খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত যে, ২০২৩ সাল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে এবং অর্থনৈতিক মন্দা আরও দেখা দিতে পারে। সে জন্য আগে থেকেই দেশের মানুষকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতির সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মাটি খুব উর্বর। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে। প্রত্যেকেই তার নিজের জমিতে কিছু না কিছু উৎপাদন করেন। পাশাপাশি সবাইকে সঞ্চয় বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশের নাগরিক সে যে ধর্মেরই হোক, যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রত্যেকটা উৎসবই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে উদযাপন করি। যে কারণে বলি ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’
গত বছর দুর্গাপূজার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা তুলে কুমিল্লাসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেই বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হলেই অমনি সেটা খুব বড় করে না দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টার দিকে আপনাদের নজর দিতে অনুরোধ করব। সেই সঙ্গে আপনাদের সহযোগিতাও চাইব।’
সব ধর্মের অন্তর্নিহিত বাণী উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কাউকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নিশ্চয়ই প্রত্যেকটা ধর্মেরই নিজস্ব কোনো না কোনো শক্তি আছে, যে শক্তিটা মানুষের অন্তরে সব ধরনের প্রেরণা জোগায়, সাহস জোগায়, শক্তি জোগায়। কাজেই এই কথাটা সবাইকে চিন্তা করে সব ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে চলাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় উদারতা। আর সেই চেতনা নিয়েই জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আমরা সেই চেতনা নিয়েই বাংলাদেশকে গড়তে চাই।’
মহালয়া উপলক্ষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবে নারী-শিশুসহ মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি অনেক সময়, অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে চলতে হয়েছে। কিন্তু এবারই সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ পরিবেশে, সুন্দরভাবে পূজা শুরু হয়েছিল। সেখানে এই একটা ঘটনায় কষ্টের জায়গা সৃষ্টি করল।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিসর্জনের সময় সবাই একটু সাবধানে থাকবেন। কারণ সেই সময় খুব স্বাভাবিকভাবেই নৌকায় করে আপনাদের যেতে হয়। একটু সচেতন থাকবেন যেন আবার কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।’