
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে রাজশাহীতে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহী সফরে আসছেন তিনি। সফরকালে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পরে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া আখচাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণাও আসতে পারে তাঁর সফর থেকে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে উজ্জীবিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে রাজশাহীকে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত জানুয়ারিতে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে এসেছিলেন তারেক রহমান। প্রায় সাড়ে আট মাস পর আবারও তাঁর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। তবে এবার তিনি আসছেন সরকারপ্রধান হিসেবে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজশাহীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও কৃষি অর্থনীতির বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান স্থানীয় নেতারা।
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশার তালিকাও দীর্ঘ। বন্ধ ও রুগ্ণ চিনিকলগুলোকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পদ্মা নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীর উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহরকে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে-এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এ অঞ্চলের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে রাজশাহীর সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে রাজশাহী আরও এগিয়ে যাবে।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরজুড়ে চলছে প্রস্তুতি। জনসভাস্থল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ব্যস্ত সময় পার করছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। তাঁর সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজশাহীর চিনিশিল্প ও আখচাষিদের ভবিষ্যৎ। একসময় আখ উৎপাদন ও চিনিকলকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের বহু মানুষের জীবিকা গড়ে উঠলেও বর্তমানে চিনিশিল্পের সংকট কৃষক ও সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু প্রণোদনা নয়, চিনিশিল্পের আধুনিকায়ন, আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হবে।
সোমবার দুপুরে জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সম্ভাব্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জানান, আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংকটাপন্ন চিনিশিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার এবং আখচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি জনসভাস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির সফরের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের বিষয়টি দেখভাল করছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা-উৎসবমুখর জনসমাগম ও রাজনৈতিক কর্মসূচির গণ্ডি পেরিয়ে সফরটি যেন এ অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা ও দৃশ্যমান উদ্যোগই এখন তাঁদের চাওয়া। রাজশাহীর মানুষ দেখতে চান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বাস্তব অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।







