
ডিবিসি জার্নাল ডেস্ক: রাজশাহীর দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে সার জব্দের পরিমাণ নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাঁর বাড়ি থেকে ৯৯৫ বস্তা সার পাওয়া গেলেও প্রশাসন ৬৭০ বস্তা জব্দ দেখিয়েছে। বাকি ৩২৫ বস্তা সার গায়েব করে পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এ ঘটনায় ৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে সার গায়েবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী। তাঁদের দাবি, সবার উপস্থিতিতে সার গণনা করে জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল এলাকায় সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ইউএনওর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইদুল সরে যান বলে জানা গেছে।
অভিযানে ৬৭০ বস্তা টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। তবে সাইদুলের দাবি, তাঁর বাড়িতে মোট ৯৯৫ বস্তা সার ছিল। তাঁর অভিযোগ, জব্দ তালিকায় ৬৭০ বস্তা দেখিয়ে বাকি ৩২৫ বস্তা সার সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই সার বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গায়েব হওয়া সার উদ্ধারের দাবিতে সাইদুল উপজেলা পরিষদে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজুর সঙ্গে দেখা করেন। সাইদুলের ভাষ্য, এ সময় তাঁকে বলা হয়, ‘আপনি সার পাবেন না। তবে এমপি সাহেব ইচ্ছে করলে হয়তো আপনি ফেরত পেতেন।’ এ বিষয়ে সহকারী কমিশনারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গায়েব হওয়া সার কোথায় বিক্রি হয়েছে—এমন প্রশ্নে সাইদুল দাবি করেন, কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স ডিআর ট্রেডার্সের শিপন কুমার সাহার কাছে এসব সার বিক্রি করা হয়েছে। তবে শিপন কুমার সাহা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসন সেলিম ট্রেডার্সের সেলিম সরকার ও মণ্ডল ট্রেডার্সের আব্দুল আজিজ মণ্ডলকে সার দিয়েছে।
দুর্গাপুর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মণ্ডল সার বিক্রিতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেলিম ট্রেডার্সের মাধ্যমে সার বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার উজানখুলশিতে তাঁর দোকানের সামনে এবং শনিবার পৌরসভা সদরে সেলিম ট্রেডার্সের মাধ্যমে সার বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, জব্দ করা সার আব্দুল আজিজ মণ্ডলের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। সার গায়েবের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সাইদুল ইসলামের সার ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স না থাকার বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযানের পর সাইদুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, ‘সবার উপস্থিতিতে সার গণনা করা হয়েছে। সার গায়েবের অভিযোগ আমি প্রথম শুনলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ কৃষি কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় মামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, সাইদুল ইসলামের সার ব্যবসার বৈধ লাইসেন্স নেই। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন বড় মোকাম থেকে চোরাইভাবে সার এনে স্থানীয়ভাবে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর সাইদুল উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে দেখা করলেও তাঁকে আটক বা তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায়ও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে জব্দ করা সার পরবর্তীতে কার মাধ্যমে, কীভাবে এবং কী পরিমাণে বিক্রি করা হয়েছে—তা নিয়েও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র/যুগান্তর







