
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রয়োজনীয় নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট ও দক্ষ জনবল ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্ৰস্তসহ ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ও শহরে রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টায় জনমনে নানান প্রশ্ন দানা বেধছে।
জনগনের দাবি, জনস্বার্থে জননী ক্লিনিকের লাইসেন্স, ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা পদ্ধতি সরেজমিনে যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ হোক । জননী ক্লিনিকের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের জিজ্ঞাসা- ক্লিনিকে স্থায়ী চিকিৎসক ও সিনিয়র নার্স, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার আলাদা ওয়ার্ড, ওটি ও অপারেশনের সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নি প্রতিরোধমূলক, ব্যবস্থা সহ জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য ক্লিনিকের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আছে কিনা? অপারেশন করে কোন ধরনের চিকিৎসক?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে,সংবাদকর্মীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মূমূর্ষু নবজাতককে রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করার কারণ কি?
জানা যায়,গত শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) বাঘার জননী ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর মূমূর্ষ অবস্থায় নবজাতককে দ্রুত রাজশাহী শহরে রেফার্ড করার পর চিকিৎসা নেওয়ার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি তদন্ত টিম জননী ক্লিনিক পরিদর্শন করে। তদন্ত টিম জানিয়েছে, তারা সিজারিয়ান অপারেশনের, নবজাতকের মৃত্যু ও ভিডিও ডিলিটের আড়ালে কি ছিল সেই বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত কালে তারা কোন চিকিৎসক পাননি। নার্স পরিচয়ে ৩জনকে পেয়েছেন। তাদের সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,তদন্তের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে সাদা রঙের মাইক্রোতে তুলে রেফার্ড এর স্থানীয় সংবাদকর্মীর ধারন করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন ওই সময়ে ক্লিনিকে অবস্থান করা ডাঃ আকতারুজ্জামান। ক্লিনিকে কর্মরত নার্সের মাধ্যমে ভিডিওর বিষয়টি জানার পর ঘটনা আড়াল করতে ডাঃ আকতারুজ্জামান সংবাদকর্মীকে ডেকে কথা বলার এক পর্যায়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন । ওই সময় স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল হামিদের সাথে অশালীন আচরণও করেন তিনি । তবে কর্মরত ওই নার্সের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং পেশার সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডাঃ আকতারুজ্জামান সরকারি মেডিকেলে চাকরি করেন। তাহলে ক্লিনিক চালায় কে?
সিজারিয়ান অপারেশনের পর ডাঃ আকতারুজ্জামান এর বক্তব্যে অনুযায়ী অপারেশন এর পর নবজাতকের গলায় নাড়ি প্যাঁচিয়ে ছিল। শ্বাস নিতে পারছিলো না। প্রাথমিক পরিচর্যার পর রেফার্ড করা হয়েছে। একই ধরনের কথা বলেছেন অ্যানেসথেসিয়ার ডাঃ তুহিন হোসেন।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ নিউজ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবজাতকের বাবা সাদ্দাম হোসেন সাহিন কমান্ডে লিখেছেন ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি ওদের বিচার চাই। পর দিন তাকে ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে আসা হলে পরে তিনি বলেন আমার অভিযোগ নেই। তবে তার আগে বলা কমান্ড এর স্ক্রিন শর্ট দিয়ে প্রমাণ স্বরূপ রাখা হয়েছে।
জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ জানান, ক্লিনিক থেকে শহরে রেফার্ড এর সময় আমি ক্লিনিকের সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করলে ডাঃ . আকতারুজ্জামান আমাকে ডেকে কথা বলার এক পর্যায়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই ক্লিনিকে পূর্বেও অপারেশন পরবর্তী মৃত্যু ও জটিলতার ঘটনা ঘটেছে। নিউজ প্রকাশের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কমান্ড করে এমন তথ্য জানিয়েছেন। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আশাদ জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







