
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উপস্থিত চিকিৎসকরা। এ পরিস্থিতিতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পিয়নের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত একজন সুইপার চিকিৎসকের দরজায় বসে রোগীদের কাগজপত্র নিয়ে সিরিয়াল দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর (পিয়ন, আয়া, ওয়ার্ডবয়) থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। বাকি সব পদ শূন্য পড়ে আছে। এছাড়া ৩ জন অফিস সহকারীর পদও পুরোপুরি শূন্য রয়েছে। ফলে কার্যত জোড়াতালি দিয়েই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম।
চিকিৎসা নিতে আসা ফজলুর রহমান, জোসনা বেগম, শহিদুল ইসলাম ও মমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “চিকিৎসকের দরজায় সিরিয়াল দেওয়ার দায়িত্ব পিয়নের হলেও এখানে সেই কাজ করছেন সুইপার। এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং রোগীদের জন্য বিব্রতকর।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “হাসপাতালের বিষয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকার আপাতত নতুন জনবল নিয়োগ দেবে না। অনেক সময় নিজের পকেট থেকে খরচ করে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হোক।