
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকৌশল খাতে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বৈষম্যমূলক প্রথার অবসান এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজশাহীতে আন্দোলনে নেমেছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে “রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ” কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিপ্লোমা কোটার বিরুদ্ধে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, চাকরিজীবী, চাকরিপ্রার্থী এবং এইচএসসি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশলীরা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকৌশল খাতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে যোগ্য হয়েও বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোববার সকালে রুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে মিছিল নিয়ে বের হন। পরে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে গিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখান থেকে যৌথভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং হাতে দাবিদাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নির্ধারণ করতে হবে এবং সব ধরনের কোটা বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে।২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে বিদ্যমান শতভাগ ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রিধারীদেরও আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।৩. বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন নামের আগে “ইঞ্জিনিয়ার” পদবি ব্যবহার করতে না পারে— এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন,“শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও আমরা নিজেদের সেক্টরে আবেদন করতে পারছি না। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে শতভাগ ডিপ্লোমা কোটা রাখা হয়েছে। অথচ অন্য সাধারণ ক্যাডারে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা সহজেই আবেদন করতে পারেন। এটা চরম বৈষম্য।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন,“ডিপ্লোমাধারীরা চলতি দায়িত্বের নামে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী এমনকি বিসিএস ক্যাডার পদেও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এতে একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া বিএসসি প্রকৌশলীদের তুলনায় তারা সিনিয়রিটি পাচ্ছেন, যা অসাংবিধানিক।”
অন্যদিকে রুয়েটের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম শাহারিয়ার বলেন, “১৯৭৮, ১৯৯৪ ও ২০১৩ সালের মতো সময়ে ডিপ্লোমাধারী সিন্ডিকেট সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবির কাছে নত করেছে। বর্তমানে তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে হুমকি ও অপমানজনক প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা এই অপসংস্কৃতির অবসান চাই।