1. info235@noreply0.com : corinnevick93 :
  2. : admin :
  3. info239@noreply0.com : jerome6977 :
  4. modlraju58@gmail.com : raju019 :
রাকসু নির্বাচনে আলোচনায় নেই নারীরা, নেপথ্যে কারণ? - ডিবিসি জার্নাল২৪
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দুর্গাপুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে মাছচাষ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দিনমজুরের করুন মৃত্যু! দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা দুর্গাপুরে ‎স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার বাঘার সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জমি নিয়ে বিরোধে আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দুর্গাপুরে সেই শিশু ধর্ষণ ঘটনায় মামলা নিলেও এজাহারে অসঙ্গতি, আলামত নষ্ট করতেই কালক্ষেপণ জাতীয় মঞ্চে লড়বে বাঘার শাহদৌলা সরকারি কলেজের স্বপ্নবাজ তিন শিক্ষার্থী দুর্গাপুর পৌর বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাগমারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘায় বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি আবু সাঈদ চাঁদ

রাকসু নির্বাচনে আলোচনায় নেই নারীরা, নেপথ্যে কারণ?

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সেই রক্তিম রাত—১৪ জুলাই। তালাবদ্ধ হলের দরজা ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। পুরুষ সহপাঠীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা বদলে দিয়েছিলেন আন্দোলনের গতি। লিখেছিলেন নতুন এক সাহসের ইতিহাস। সে রাতে তাদের উপস্থিতি শুধু আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং প্রমাণ করেছিল অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে নারীরা কখনোই পেছনের সারিতে থাকতে রাজি নন। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাকসু নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই দৃশ্য যেন কেবলই স্মৃতির পাতায়।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে যখন ক্যাম্পাসে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্যানেল নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায় সর্বত্র চলছে জোর আলোচনা ও সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ। তখন সেই আলোচনায় তুলনামূলক অনুপস্থিত নারী শিক্ষার্থীরা। পুরুষ শিক্ষার্থীরা যেখানে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন, সেখানে নারীদের তৎপরতা প্রায় শূণ্যের কোটায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও ছাত্রীরা বলছেন, নির্বাচনে নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করার মতো ক্যাম্পাসে উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সম্মানহানির আশঙ্কাই নারী শিক্ষার্থীদের এই অনাগ্রহের প্রধান কারণ। এ জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এবারের রাকসু নির্বাচনে মোট ২৫ হাজার ১২৭ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ৩৯ শতাংশ। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইজন নারী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন। তারা হলেন—বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নিশা আক্তার এবং মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আফরিন জাহান।
সাইবার বুলিংয়ের ভয়:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন সচেতন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তাদের কয়েকজনের রাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ থাকলেও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইনে হয়রানির ভয়। তারা বলছেন, নারী শিক্ষার্থী হিসেবে রাজনীতিতে নামলে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং ছবি বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নোংরামি করা হতে পারে। এই ভয় তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ‘এন্টি সাইবার বুলিং সেল’ গঠনের আশ্বাস দেওয়া হলেও, তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা আমারও আছে। কিন্তু নির্বাচনে দাঁড়ালেই সামাজিক মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য, এমনকি আমার ছবি এডিট করে বাজেভাবে প্রচার করার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এই মানসিক চাপ সহ্য করে নির্বাচন করাটা কঠিন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুরুষ প্রার্থীরা রাজনৈতিক সমালোচনা করেন, কিন্তু নারী প্রার্থী হলে সেই সমালোচনা সরাসরি চরিত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে চলে যায়। এই অসম্মানজনক পরিস্থিতি এড়াতেই অনেকে চুপ করে আছেন।’
ক্যাম্পাসের পরিবেশ নারীদের জন্য অনুকূল নয়:
নারী শিক্ষার্থীরা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার মতো ক্যাম্পাসে উপযুক্ত পরিবেশ মনে করছেন না। রাকসুতে যেহেতু বেশ বড় একটা ক্ষমতা অর্জনের বিষয় আছে, তাই তারা মনে করছেন ক্যাম্পাসে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফোরামের সংগঠক (ইউএসডিএফ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক তাসিন খান বলেন, ‘নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করার মতো ক্যাম্পাসে উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি এন্টি সাইবার বুলিং সেল গঠনের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তার কার্যক্রম আমরা এখনও শুরু হতে দেখলাম না। ফলে নির্বাচনে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।’

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাকসুতে বেশ বড় একটা ক্ষমতা অর্জনের বিষয় আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি ক্যাম্পাসে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘পরিবেশ পরিষদ’ গঠনের দাবি উঠলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। আমার ধারণা, এজন্য আমার মতো অনেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর ও সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুষ্মিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। নারীরাও ভয় পাচ্ছে, যার বাস্তবিক কিছু কারণও আছে। সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে নারীদের চরিত্র হনন এবং তাদের নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। যদিও অতীতেও নারীরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা আরও বেড়েছে। দেখবেন প্রকাশ্যে কত ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে।’
যা বলছে ছাত্রসংগঠনগুলো
ক্যাম্পাসের সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো এবং সম্ভাব্য পুরুষ প্রার্থীরা নারী নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তারা ছাত্রীদের অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছেন। রাকসু ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাম সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট, ছাত্রদল, শিবিরসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন তাদের প্যানেলগুলোতে নারীদের উল্লেখযোগ্য পদে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে নারীদের সাথে কথা বলেছি। ৫ আগস্টের পরে কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ‘সাইবার বুলিং’ ও ‘বট’ সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চালু করেছে। এতে অনেক নারী শিক্ষার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছেন। তবে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট নারীদের প্যানেলে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসুর ভিপি (সহ-সভাপতি) পদপ্রার্থী মেহেদী সজীব বলেন, আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমরা নারী-পুরুষ কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি। কিন্তু আন্দোলন শেষ হওয়ার পর নারী শিক্ষার্থীরা আবার ঘরে ফিরে গেছে। পরে আর কোনো কর্মসূচিতে তাদের আগ্রহ দেখা যায়নি। যেটা এখনও দেখা যাচ্ছে। আমার জায়গা থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিছু মানুষ আগ্রহ দেখালেও অধিকাংশ মানুষই এসব থেকে দ্বিমুখ থাকতে চাচ্ছে। তবে আমাদের প্যানেলে নারী বিষয়ক সম্পাদকসহ অন্য পদে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকবে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা রাকসুতে আমাদের বোনদের সমান অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়। বিশেষ করে নারী বিষয়ক যে পদগুলো রয়েছে, সেগুলো তো তাদের জন্য সংরক্ষিত। সে জায়গাগুলোতে অবশ্যই তাদের অংশগ্রহণ করা উচিত।’
ছাত্রদলের শাখা সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘প্রশাসন তড়িঘড়ি করে রাকসুর তফসিল ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীদের রাকসু সম্পর্কে সচেতন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। যার ফলে আমরা নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করছি না। একপাক্ষিক নির্বাচন না করে সময় নিয়ে উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা হোক। ছাত্রদলের প্যানেলে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে আমাদের বোনেরা থাকবেন।’
প্রশাসন কী বলছে?
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আসলে সাইবার বুলিং শনাক্ত করার জন্য আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে একমাত্র পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করতে পারে। তারা আমাদের যতটুকু সাহায্য করবে, ততটুকু ব্যবস্থা নিতে পারবো। তাছাড়া এটি একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই নারীদের নিরাপত্তায় এবং সাইবার বুলিং রোধে একটি সাইবার বুলিং প্রতিরোধ সেল গঠন করবো। যেটি পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদের এ বিষয়ে জানাশোনা আছে, তাদেরকে ও সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই সেল শুধু রাকসুকেন্দ্রিক নয় দীর্ঘ মেয়াদেও পরিচালিত হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

Designed by: ATOZ IT HOST