
নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাট এখন ময়লার স্তুপ ও দুর্গন্ধে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। হাটের এমন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বাধ্য হয়ে কেনাবেচা করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন—হাট থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
মাংস বিক্রেতা মালেক আলী বলেন, ‘পাশেই ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে কেনাবেচা দূরের কথা, টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে। মাছ ও মাংস বাজারের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। মাছের পানি আর জবাই করা পশুর রক্ত জমে দুর্গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ব্যবসা করতে হচ্ছে।’
মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘মাছ বাজারের পাশে এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে কেনাবেচা করা গেলেও বর্ষায় দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ে সারা হাটজুড়ে। দূর্গন্ধ ও পোকামাকড়ের কারণে ক্রেতারা আর আসতে চায় না। কতবার বলেছি, কিন্তু হাট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
ক্রেতা আসলাম বলেন, ‘বানেশ্বর হাটের পরিবেশ খুবই নোংরা। দুর্গন্ধের কারণে হাটে আসাই যায় না। চারপাশে শুধু ময়লার স্তুপ। শুনি হাট ৬ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকেও নাকি ৯–১০ কোটি টাকা জমা আছে। তবু উন্নয়ন হয় না কেন বুঝি না।’
আরেক ক্রেতা সবুজ আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাটের এ অবস্থা। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে বাজার করা গেলেও বর্ষায় হাট পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে দুর্গন্ধ আর পোকামাকড় মানুষের শরীরে ওঠে। এতে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে।’
বানেশ্বর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আম, খেজুরের গুড়, সবজি, গরু-ছাগল ও গৃহস্থালি পণ্যের জন্য এই হাট বেশ পরিচিত। প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নেওয়া হলেও কোনো নজরদারি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম নুর হোসেন নির্ঝর বলেন, ‘হাটের নোংরা পরিবেশের অন্যতম কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। আমরা ইতোমধ্যে ড্রেনেজের উদ্যোগ নিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। হাটের ভেতরে সবজি, মাছ ও মাংসের পট্টিতে টিনশেড নির্মাণ এবং বন্ধ ড্রেনটি সংস্কারের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।