
নিজস্ব প্রতিবেদক : মজুতবিরোধী অভিযান জোরদারের পরও রাজশাহী অঞ্চলে কমছে না চালের দাম। গত দুই সপ্তাহে মোকাম ও বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ১০ টাকা। প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো মৌসুমে ধানের দাম বাড়ায় চালকল মালিকদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলোর মজুতদারি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ চালের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অভিযানের পর অবশ্য কিছুটা দাম কমলেও সরবরাহ কমে গেছে।
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে গত ১০ দিনে ২২টি চালকল ও মোকামে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, কামাল অটো রাইস মিলস, হাসেম অটো মিলস ও নওগাঁর কয়েকটি মিলসহ পাবনা ও বগুড়ায়ও অভিযান হয়েছে। অভিযানের ভয়ে অনেক পাইকারি আড়তদার আড়ত বন্ধ রেখেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি রাজশাহীতে এক সভায় খাদ্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ও মজুতবিরোধী অভিযান জোরদারে নির্দেশনা দেন। বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, বাজারের নিয়ন্ত্রণ বড় বড় কোম্পানির হাতে থাকায় প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে।
রাজশাহী খাদ্য বিভাগের সহকারী উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, সরকারি গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ ও বৃষ্টিজনিত কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন কমছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
শনিবার রাজশাহীর সাহেববাজারে খুচরা বাজারে দেখা যায়, মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৮৪ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ টাকা, এবং আটাশ চাল ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ৮-১০ টাকা বেশি।
এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, আড়তে সরবরাহ কম ও দাম বেশি হওয়ায় খুচরায় দাম বেড়েছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, দাম বাড়ায় তাদের উপর চাপ বেড়েছে। তবে চালকল মালিক সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মজুতবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আশা করা হচ্ছে শিগগিরই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।