
নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন দিনের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারালেন কারাবন্দি দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরে অংশ নেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই তিনদিন পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্যারোলে মুক্তি নিয়ে পুলিশি পাহারায় বাবার জানাজাতেও তাদের অংশ নিতে হলো।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাদের বাবা নুর আহমদের জানাজা। এরপর স্থানীয় কবরস্থানে হয়েছে দাফন। যে মাঠে গত ২১ ফেব্রুয়ারি হয়েছে মা মোস্তফা বেগমের জানাজা। আর দাফনও হয়েছে একই কবরস্থানে।
জানা গেছে, ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। যে কারণে ৫ আগস্টের পর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় দুই ভাইকে।
পুলিশি পাহারায় বাড়িতে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে তুলে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় তাদের দুই হাতেই হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার সঙ্গে দড়ি বেঁধে তা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরা অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর দুদিন পর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মারা যান তাদের বাবা নুর আহমদ। যথারীতি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিতে এলাকায় যান দুই ভাই।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা পুলিশ ও সাংবাদিক উভয় সংকটে পড়েছি। মায়ের জানাজায় হাতকড়া থাকার ছবি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। আবার বাবার জানাজায় হাতকড়া দৃশ্যমান থাকলে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। অথচ সাংবাদিকদের পেশাগত কারণে ছবি দরকার। আর হাতকড়ার ছবি যাতে গণমাধ্যমে না আসে সেই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।