
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে সহকর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযুক্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাকে সাময়িক বরখাস্ত তুলে নিয়ে পাবনার পাকশি রেলওয়েতে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের গড়িমসি ও ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত খালেক সিকদার (ফেরো প্রিন্টার) গত বছরের ৭ মে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরে এ ঘটনাটি ঘটান। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও রেলওয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী জানান, সেদিন অফিস শেষে সবাই বেরিয়ে গেলে তিনি মোবাইল আনতে ফেরেন। তখন খালেক সিকদার তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি আহত হন। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে খালেক নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান, তবে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
প্রথমে রেলওয়ের ডেপুটি সিওপিএস হাসিনা খাতুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও প্রায় ছয় মাস পরে তিনি রিপোর্ট দেন। সেখানে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে উল্টো ভুক্তভোগীকেই কটাক্ষ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হাসিনা খাতুন ও খালেকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় প্রতিবেদন প্রভাবিত হয়েছে।
পরে রাজশাহী মহিলা সহায়তা কর্মসূচির সহকারী পরিচালক মাহবুবা সুলতানা সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি বলেন, “হাসিনা খাতুনকে তদন্তে রাখা উচিত হয়নি। বহিরাগত প্রভাবের চেষ্টা ছিল, যা আমি নিজ চোখে দেখেছি।”
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “খালেকের বিষয়ে জানি। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে, এটা আমার জানা ছিল না। অভিযোগপত্র দাখিল হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, আশা করি প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, প্রথমে খালেককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তা তুলে নেওয়া হয়। এখন তাকে ঈশ্বরদীতে বদলি করা হয়েছে। তার আশঙ্কা, নতুন তদন্ত কমিটিকেও হাসিনা খাতুন প্রভাবিত করছেন।