1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ন

রাজশাহী জেলা আ.লীগের নতুন কমিটি, ৩৩ পদে পরিবর্তন

  • আপডেট করা হয়েছে শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্মেলনের ১১ মাস পর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই কমিটি জমা দিয়েছিলেন। সে কমিটি এখনও অনুমোদন হয়নি। এরই মধ্যে সভাপতি আগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৩৩ জনকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রে নতুন কমিটি জমা দিয়েছেন। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে বিনাভোটে সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি এবং আরেক সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া দুই যুগ্ম সম্পাদকেরও নাম সেদিন ঘোষণা করা হয়। তাদের একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলা হয়। তারপর গত নভেম্বরে সভাপতি-সম্পাদক কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেন। পরবর্তীতে সভাপতি বলেন, কয়েকজন এমপির চাপে দলের নিষ্ক্রিয় এবং হাইব্রিড নেতাদের নিয়েই কমিটি জমা দিতে হয়েছে।

এদিকে সভাপতি মেরাজ মোল্লার এমন কথার পর প্রস্তাবিত ওই কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ফলে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিটি অনুমোদন না দিয়ে ৫ সদস্যের একটি আপিল কমিটি গঠন করে জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন। এরপর কেন্দ্রীয় নেতারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে একসঙ্গে বসে বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করলেও সাধারণ সম্পাদক অনুপস্থিত থাকায় সমস্যার সমাধান হয়নি। আর এরই জেরে সভাপতি এককভাবে আরেকটি কমিটি করে কেন্দ্রে দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালের কাছে এ কমিটি জমা দিয়েছেন সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতির দেয়া ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আগের প্রস্তাবিত ৩৩ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সহসভাপতির মোট ১১ পদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ৬ জন এবং নতুন ৬ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সভাপতির কমিটিতে সহসভাপতির পদে জায়গা পাওয়া নতুন ৬ জন হলেন- প্রবীণ নেতা বদরুজ্জামান রবু মিয়া, আবদুল মজিদ সরদার, অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী, মুক্তার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বাদশা।

সভাপতির কমিটিতে সম্পাদকমণ্ডলীতেও বড় পরিবর্তন হয়েছে। তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদের মধ্যে আগের কমিটির একে আসাদুজ্জামানকে রেখে বাকি দুটি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সভাপতির কমিটিতে আহসানুল হক মাসুদ ও ফারুক হোসেন ডাবলুর নাম এসেছে। প্রচার সম্পাদক পদে এসেছেন মনিরুল ইসলাম বাবু। আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে আসা প্রদ্যুৎ কুমার সরকারকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটিতে এসেছে শরিফুল ইসলামের নাম।

উপদপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তারের বদলে এসেছে এসএম তৌহিদ আল হাসান তুহিনের নাম। তুহিন রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শিবিরের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে সুপারিশ নোটে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন সম্পাদক এজাজুল হক মানুর বদলে এসেছেন অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জেমস। ধর্ম সম্পাদক পদে এসেছেন পিনু মোল্লাহ। আগে ছিলেন এন্তাজ আলী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে জিএম হিরা বাচ্চুর বদলে এসেছে আখতারুজ্জামান আক্তারের নাম। আরও কয়েকটি পদেও নতুন নাম এসেছে।

এদিকে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা যাদের আগের প্রস্তাবিত কমিটিতে বাদ দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে রাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার, রায়হানুল হকসহ আরও সাতজনকে সদস্য করা হয়েছে প্রস্তাবিত নতুন কমিটিতে।

সভাপতি তার কমিটিতে পরিবর্তন প্রসঙ্গে লিখেছেন, আগের প্রস্তাবিত কমিটিতে জামায়াত-বিএনপি থেকে আসা হাইব্রিডদের বিভিন্ন পদে নাম দেয়া হয়েছিল জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যদের সুপারিশ ও চাপে, যা নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এসব কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি রাজশাহীর কমিটি অনুমোদন থেকে বিরত থাকেন। ফলে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত সাপেক্ষে নতুন করে ৭৫ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছেন। নতুন প্রস্তাবিত এ কমিটিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাকর্মীরাই জায়গা পেয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমি যে কমিটি জমা দিয়েছি, তাতে তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে। আশা করি বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমার এ কমিটিকে অনুমোদন দেবেন। এতে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন