
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি জেন-জি বিক্ষোভের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। তার সহকারী প্রকাশ সিলওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগ রাজধানী কাঠমান্ডুতে চলমান সহিংস, দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের দুই দিন পর এসেছে। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ‘জেন-জি প্রোটেস্ট’ নামে পরিচিত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীরা নেপালি পার্লামেন্ট ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। উত্তেজিত জনতা একাধিক প্রভাবশালী নেতার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যার মধ্যে ছিলেন ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবন। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ও হামলার শিকার হয়।
সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৯০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ওলি দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়ানোর পর সংকট নিরসনে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পদত্যাগের আগে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বৈঠকটি সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে, তবে বৈঠকের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেছিলেন, “এই সংকটের সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব।”
ওলি আরও জানান, “রাজধানীসহ সারা দেশে সোমবারের বিক্ষোভ ও পরবর্তী ঘটনাগুলো আমাকে দুঃখিত করেছে। কোনো ধরনের সহিংসতা দেশের স্বার্থে ভালো নয়। এখন শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানই প্রয়োজন।