
বিএনপিকে জায়গা করে দিতে আমরা অনেক ‘সেক্রেফাইস’ করেছি, অনেক ‘পয়েন্ট মাইনাস’ করেছি।
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বিএনপির বিরোধিতা মেনে অনেক বিষয়ে ‘সেক্রেফাইস’ করেছেন দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বৃহস্পতিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চান।
তাহের বলেন, “আপনারা জানেন বিএনপি প্রথমে কোনো সংস্কারই চাচ্ছিল না। জনগণের চাপে তারা সংস্কার কমিশনে অংশগ্রহণ করেছে। এ কারণে বিএনপিকে জায়গা করে দিতে আমরা অনেক ‘সেক্রেফাইস’ করেছি, অনেক ‘পয়েন্ট মাইনাস’ করেছি।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে এনসিসির প্রস্তাব উল্লেখ করেন, যেখানে জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ গঠন ও পিএসসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক ‘বডি’ খোলা এবং চাকরি বা নির্বাচন কমিশনে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের প্রভাব সীমিত করার বিষয়টি ছিল। তবে বিএনপি এসবের বিরোধিতা করেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৭ অক্টোবর সনদ স্বাক্ষরিত করার সময় রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরপর মঙ্গলবার কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে হস্তান্তর করে। সুপারিশে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনে যে কোনো সময় গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।
তাহের বলেন, “বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একদিনে গণভোট চায়। অন্যদিকে জামায়াত নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির জন্য করা ‘সেক্রেফাইস’ এবং সমঝোতা সত্ত্বেও এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণভোট বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
এ ঘটনায় জামায়াত দাবি করেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যেন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, সেটিই তাঁদের দাবি।