
স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুরে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলার সময় নিখোঁজ হওয়া চার বছর বয়সী শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে শিশু হুমায়রা জান্নাতকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাড়ির পাশ থেকেই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি রহস্যজনক। ফোনকল সহ ঘটনার কিছুটা ক্লু ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। প্রকৃত মোটিভ উদ্ধার করতে কাজ করছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুর সংলগ্ন জংলা থেকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশের আঙিনায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু হুমায়রা জান্নাত। হুমায়রা জান্নাত হাটকানপাড়া বাজুখলসী গ্রামের হাসিবুল হোসেন শান্তর একমাত্র কন্যা বলে জানা গেছে।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে আঙ্গিনায় সমবয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিল হুমায়রা জান্নাত। এক পর্যায়ে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর বাড়ির আশপাশের পুকুর, জংলা ও বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজি করেও হুমায়রা জান্নাতের কোনো সন্ধান পাননি।
শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে পুকুরের ধারে জঙ্গলের ভেতর শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হুমায়রা জান্নাতের বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, আমার একমাত্র শিশুকন্যা বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর আর তাকে দেখতে পাইনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ (শনিবার) দুপুরে আমার মেয়েকে পেলাম ঠিকই কিন্তু মৃত অবস্থায়। এ কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শান্ত।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডাঃ শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ওই শিশুর শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে কয়েকটি ছোট ছোট জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো অস্বাভাবিক কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে হয়তো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার জানান, নিখোঁজের পর থেকেই খবর পেয়ে থানা পুলিশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কায়দায় শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছিল।
ওসি আরও জানান, শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে জংলার মধ্যে অচেতন অবস্থায় গ্রামবাসীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তবে রমেশ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই খবর পেয়ে ফোনকলের একটি সূত্র ধরে পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য টিম অত্যন্ত গোপনে কাজ করছে। ঘটনার মোটিভ উদঘাটন করতে আপাতত সবকিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে ঘটনার প্রকৃত মোটিভ উদঘাটন করা গেলে পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে অনুমতি সাপেক্ষে আপনাদের সকল তথ্য জানানো হবে বলেও বলেন ওসি পঞ্চনন্দ সরকার।