
নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন ও বন্যা দেখা দিয়েছে। চর আষাড়িয়াদহ, চর বয়ারমারী, চর নওসাড়া, চর দিয়ার মানিকচকসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ধান, পাটসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন নতুন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে ১নং চর বয়ারমারী গ্রামের বাবুর বাড়ি (পিতা আলম) সম্পূর্ণ নদীতে তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে তার ৮ বিঘা ধানের জমিও নদী গিলে নিয়েছে। ৮নং চর নওসাড়া ও ২নং চর দিয়ার মানিকচক পশ্চিমপাড়ার পরিস্থিতিও একই রকম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। ধান ও পাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। গবাদিপশু হারানো ও আবাদি জমি নষ্ট হওয়ায় অনেক পরিবার ভবিষ্যতের জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।
ভাঙনের ভয় ও পানিবন্দি পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গোদাগাড়ীর অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলোতে চলে গেছে। সেখানে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তাহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে আমাদের জমি-বাড়ি। আজ যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, হয়তো কয়েকদিন পর সেটিও থাকবে না। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আমরা কোথায় যাব জানি না।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসরাফুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ চর এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হবে।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসডি রাশেদুল ইসলাম বলেন, রবিবার পানি বিপৎসীমার নিচে ৩১ সেন্টিমিটার থাকলেও সোমবার তা ১২ সেন্টিমিটার ও মঙ্গলবার ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং অস্থায়ীভাবে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর তীরবর্তী এসব চরাঞ্চল প্রায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে। তবে এবারের ভাঙনের তীব্রতা ও ক্ষতির পরিমাণ অন্যান বছরের তুলনায় বেশি।