
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কাজে তথ্য সংগ্রহকারী পদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বাংলোর গৃহকর্মীকে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগও উঠেছে ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্যামেলিকার্ড শুমারিতে নিয়োগ বঞ্চিত পরিক্ষার্থীরা
চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক নিয়োগ বঞ্চিত পরিক্ষার্থী ও সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মী নিয়োগে উপজেলা প্রশাসনের একটি অংশ অনিয়মে সঙ্গে যুক্ত ছিল।
রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ ও অর্থের বিনিময়ে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে, ইউএনও’র বাড়ির গৃহকর্মীকে (রোল নং-৭০৫) তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সর্বপরি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে এবং পূনরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে নিয়োগেরদাবি জানান তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউএনও’র বাংলোয় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে হাসিনা খাতুন নামের এক নারী। কাজের লোক হাসিনা ও তার মেয়ে রূপাকে বিভিন্ন অযুহাতে সরকারী বিভিন্ন বরাদ্দের একটি অংশ দিয়ে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে সুবিধাটা পাওয়ার কথা ছিল উপজেলার বিভিন্ন অসহায় পরিবারের। ফ্যামেলি কার্য তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে রূপা প্রথশ ধাপে অংশ গ্রহন করে কৃতর্কায হতে পারেনি। তবে ২য় ধাপে সে ইউএনও’র ক্ষমতায় তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে।
ঘটনার সত্যতা খুজতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তর, উপজেলা প্রকৌশলী, সমাজসেবা, পিআইও অফিস এবং উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়। কিন্ত তারা কোন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি। বরং নানা অজুহাতে তারা মৌখিক বলেছে, এই ইউএনও সময় কোন ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা সমাজে সেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, চারঘাট রাজশাহী তথ্য সংগ্রহকারী মোট আবেদন ৮৬৬, প্রথম ধাপে পরীক্ষার্থী ৫৬৫ জন, উত্তীর্ণ ৫৭ জন। ২য় ধাপে পরীক্ষার্থী ৩০১ উত্তীণ ৩৩ জন, মোট উত্তীর্ণ ৯০ জন। সুপারভাইজার মোট আবেদন ১৪০ জন প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ ৬ জন, ২য় ধাপে ৩ জন, মোট উত্তীর্ণ ৯ জন। তবে উর্ত্তীণদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক তদবির ছিল বলে দাবি করেছেন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পরিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, সত্যতার বিষয়ে সমাজসেবা অফিসার রাশেদুজ্জামান, আইসিটি অফিসার আরেফিন এবং মহিলা বিষয়ক অফিসার রশিদা পারভিন গনমাধ্যমকে বলেন, ইউএনও সহ মোট চারজন নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব পালন করেছে। তবে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের ব্যাক্তিগত নাম পরিচয় তাদের জানা নেই। তারা শুধু ক্রমিক নং ধরে কাজ করেছেন। ওই সময় কে ইউএনও’র কাজের মেয়ে ছিল সেটা তাদের জানা ছিল না।
তবে গত কয়েক দিন যাবত সার্বিক বিষয়ে চারঘাট উপজেলা ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে মুঠোফোনে জেলা প্রশাসক কাজী শহদিুল ইসলাম চারঘাট ইউএনও’র বিষয়ে বক্তব্য না দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নয়। তবে বিষয়টি তিনি জেনে জানাবেন।







