
নিউজ ডেস্ক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়।
রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান জানান, শনিবার (২৪ মে) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, “এই সরকারের নেতৃত্বে জনগণ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে চায়।”
সরকারের প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হোক বা অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার—প্রতিটি সরকারকেই জনতার ন্যায্য প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। সরকার কোনোভাবেই করুণার পাত্র নয়, জনগণের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া তাদের কর্তব্য।”
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে একটি অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের কথা শোনার কেউ নেই।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে এনবিআরের সংস্কার চাপিয়ে দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।”
সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এখানে অল্প বা বেশি বলে কিছু নেই। তবে শুধু পুথিগত নয়, বাস্তবভিত্তিক সংস্কারই বেশি জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, তবু তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। তাই তাদের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে স্পষ্ট করা জরুরি। কারণ, অন্ধকারে রেখে বা রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে কোনো পরিকল্পনা কখনোই কার্যকর ও টেকসই হতে পারে না।







