
নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর :
“ডালিম শুধু একজন শিল্পী নয়, ছিলেন দুর্গাপুরের প্রাণের মুখ। তার গানে ছিল মাটি ও মানুষের গন্ধ, ছিল আত্মার স্পর্শ।”—এই কথাগুলো বলছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী-৫ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে লোকসংগীতশিল্পী তরিকুল ইসলাম ডালিমের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত তরিকুল ইসলাম ডালিম (৩৪), স্থানীয়ভাবে ‘গামছা বাউল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আরটিভির “বাংলার গায়েন” সিজন-২-এ অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন।
রাতে হরিপুর গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন হাজারো মানুষ। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই সময় এলাকার সাধারণ মানুষ, সাংস্কৃতিককর্মী, সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে—এটাই আল্লাহর বিধান। এই দুনিয়া আখেরাতের শস্যক্ষেত্র, তাই এখানেই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে প্রস্তুতি নিতে হবে।”
তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ভালো কর্ম ও ইবাদতের মাধ্যমে আমরা চিরস্থায়ী জান্নাত অর্জন করতে পারি।”
ডালিম ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীপুর এলাকায় ডিপটিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করার সময় শর্টসার্কিট হয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি গান করতেন লোকজ ভঙ্গিতে—গলায় গামছা বেঁধে, নিজস্ব ঢঙে। তার কণ্ঠে ছিল ভাটিয়ালি, বাউল, জারি ও পালাগানের সুরের মায়া। গান দিয়েই তিনি জয় করেছিলেন দুর্গাপুরবাসীর হৃদয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এক শূন্যতার মধ্যে পড়েছে। শোকাহত সহকর্মীরা বলছেন, “ডালিমের মতো হৃদয়বান শিল্পী আমরা আর পাবো না।”







