
নিউজ ডেস্ক : দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘‘একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এবার লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দুর্নীতির মূল উৎপাটনে তারুণ্য-যৌবনের শক্তিকে কাজে লাগাবো।’’
সমাবেশে বক্তব্যের সময় অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান জামায়াত আমির। কিছুটা সুস্থ হলে বসে বক্তব্য দেন।
ফ্যাসিবাদের পতনের পর অনুকূল পরিবেশে সমাবেশের সুযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘সাড়ে ১৫ বছরের কঠিন অন্ধকার যুগে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের কাছে আমরা ঋণী।’’
তিনি আবু সাঈদদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘যদি তারা বুক পেতে দাঁড়াতেন না, গুলি বুকে নিতেন না, তবে আজকের বাংলাদেশ হয়তো পেতাম না।’’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি বন্ধ করবে তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে….’’ এ পর্যন্ত বলার পরই তিনি মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর ফের দাঁড়িয়ে কিছু বলার চেষ্টা করলে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বসে বক্তব্য শেষ করেন।
এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে জামায়াত আমির সমাবেশস্থলে পৌঁছান। নেতাকর্মীদের স্লোগানে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
জামায়াতে ইসলামীর এই জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সমমনা রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে জামায়াতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়। তারা ৭২’র সংবিধান বাতিল, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিও তোলে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এদিন সকাল থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জারি ছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়।







