
নিজস্ব প্রতিবেদক: নীলফামারী জেলার ডোমারে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও নিহতের শ্বাশুড়ি মোছা. ফারজিনা আক্তারকে (৫৫) রাজশাহীর দুর্গাপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১টার দিকে র্যাব-৫, সিপিএসসি রাজশাহীর একটি চৌকস দল দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ফারজিনা আক্তার নীলফামারী জেলার ডোমার থানার ডাঙ্গাপাড়া সাহার মোড় এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম খয়রুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফারজিনা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ২নং পলাতক আসামি। হত্যাকাণ্ডের শিকার ভিকটিমের সঙ্গে অভিযুক্ত ফারজিনার ছেলে ফারুক হোসেনের দুই বছর আগে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ মাস বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শ্বাশুড়ি ও দেবরের সঙ্গে গৃহবধূর পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২২ মে রাত ১০টার দিকে পারিবারিক বিবাদের এক পর্যায়ে ভিকটিম ঘোষণা দেন তিনি একই সংসারে আর থাকবেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ফারুক হোসেন, শ্বাশুড়ি ফারজিনা ও ভাসুর মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ঘরের বিছানায় পেটে ছুরিকাঘাত করে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ মে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী, শ্বাশুড়ি ও ভাসুরসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে দুর্গাপুর থেকে শ্বাশুড়ি ফারজিনাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ডোমার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।







