
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার জন্য জামায়াত-শিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন এমপি আয়নুল হক। তবে জামায়াত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে রায়গঞ্জে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি বিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারি একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে চান্দাইকোনা এলাকায় টিটিসি স্থাপনের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যায়। এরপর উপজেলার ধানগড়া ও চান্দাইকোনা-দুই পক্ষই নিজেদের এলাকায় টিটিসি ভবন নির্মাণের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।
শনিবার বিকেলে ধানগড়া এলাকায় টিটিসি নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এমপি আয়নুল হক। একপর্যায়ে বৈঠকে উপস্থিত দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এমপি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় পেছন থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে গাড়ির পেছনের কাচ ও একটি ক্যামেরা ভেঙে যায়।
ঘটনার পর দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এমপি আয়নুল হক দাবি করেন, টিটিসি স্থাপনের স্থান নিয়ে আলোচনার সময় জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় তাঁর গাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই টিটিসি নির্মাণ করা হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমপির গাড়িতে হামলার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।’
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। এমপি সাহেব একটি সিনক্রিয়েট করছেন। গাড়ির কাচ কীভাবে ভাঙল, সেটা তারাই বলতে পারবেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, টিটিসি স্থাপনের জন্য অনেক আগেই রায়গঞ্জ পৌরসভার কাছে দেড় একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বরাদ্দ আসার পর এমপি আয়নুল হক সেটি চান্দাইকোনা এলাকায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ধানগড়ার বিএনপির নেতাকর্মীরাও ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।
এ বিষয়ে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







