
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক শিশু স্কুল ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহত লাবনী (৮) নওগাঁর পতিসরের নাহিদ হোসেন মেয়ে। লাবনী স্থানীয় খাজা ইউনুস আলী ল্যাবরেটারী স্কুল এন্ড কলেজের শিশু শ্রেনীতে পড়তো। সে পাশ্ববর্তী ব্রাহ্মণগ্রামে নানীর বাড়িতে মা ও ছোট বোনের সাথে থাকতো। এদিকে এই ঘটনায় নিহতের নানী ব্রাহ্মণ গ্রামের মৃত শুকুর আলীর স্ত্রী লালভানু (৬৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা পুলিশ আটক করেছে।
নিহতের পারিবারিক সুত্র ও প্রতিবেশীরা জানান, গত ১৬ বছর আগে নওগার পতিসরের আব্দুস সালামের ছেলে নাহিদ ইসলাম এর সাথে এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত শুকুর আলীর মেয়ে মানষিক প্রতিবন্ধী নার্গিস খাতুন এর সাথে বিয়ে হয়। নাহিদ গত ৮ বছর ধরে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অবস্থায় পরিবারকে শশুর বাড়িতে রাখতো। তার দুই শিশু কন্যার মধ্যে ৮ বছরের বড় মেয়ে লাবনী খাতুন পাশের একটি স্কুলে পড়াতো। মা মানষিক প্রতিবন্ধী ও বাবা না থাকায় পাষণ্ড নানী নিয়মিত তাকে খাবার খেতে দিত না ও অকারনে মারধর করতো। সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আশপাশের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতো লাবনী।
শুক্রবার দুপুরে একই অবস্থার সূত্র হলে পাশের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে গেলে তার নানী মারধর করে ও গলায় চেপে ধরলে গুরুতর আহত হয়। পরে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
লাবনীর বাবা নাহিদ অভিযোগ করে জানান, আমি ঢাকায় ছোট্ট একটি কাজ করলেও নিয়মিত লেখাপড়ার খরচ পাঠাতাম। অথচ অকারণে আমার মেয়েকে শাশুড়ি লালভানু মারধর করত। হত্যার পর তার বিদেশ থাকা ছেলেকে ফোন করে স্বীকার করেছে সেই হত্যা করেছে। পুলিশ যেন পোস্টমার্টেম না করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। একথা তার ছেলের স্ত্রী আমাকে বলেছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।
এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি আনারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শোনার পর আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে মেয়েটির নানীকে ধরে এনেছি। লাশ ময়নাতদন্তের পর ঘটনার কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।