নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে টয়লেটের তীব্র দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। বহির্বিভাগের মেরামত ও সংস্কারকাজের সময় টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘদিনেও সেটি সংস্কার করা হয়নি। ফলে টয়লেটের বর্জ্য নিষ্কাশন ট্যাংকির একটি অংশ ভাঙা অবস্থায় থাকায় সেখান দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টয়লেটের বর্জ্য নিষ্কাশন ট্যাংকির একটি অংশ ভাঙা। ওই স্থান দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি সমাধান না হওয়ায় বহির্বিভাগের আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। দুর্গন্ধের কারণে অসুস্থ রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের স্বজনদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন হাসান আলী বলেন, তাঁর এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসে টয়লেটের দুর্গন্ধে তিনি নিজেই অসুস্থ বোধ করেছেন। রোগীদের সুস্থ করার জন্য যেখানে আনা হয়, সেখানে এমন পরিবেশ দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, হাসপাতালে আগত সবার সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ দেওয়া নয়, চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অসম্পূর্ণ কাজটি সাপাহারের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মেরামত ও সংস্কারকাজের জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই চলে যান। এতে বহির্বিভাগের টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য রাজশাহী সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, বহির্বিভাগের মেরামতকাজের অংশ হিসেবে টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হলেও কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার চলে যান। ফলে টয়লেটের বর্জ্য নিষ্কাশনের মুখ যথাযথভাবে বন্ধ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সমস্যাটি সমাধানের জন্য ১১ ও ১৮ আগস্ট যথাক্রমে ৭১০ ও ৭৪০ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ সমস্যার কারণে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগী, তাঁদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এতে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, নওগাঁর সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।