
নিজস্ব প্রতিবেদক : নওগাঁর সাপাহারে মামুনুর রশিদ (৩২) নামে এক কৃষককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ একটি চক্রের ষড়যন্ত্রের আলামত মিলেছে।
ঘটনার পেছনের তথ্য খতিয়ে দেখা হয় মামলার নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে সাপাহার উপজেলার সীমান্তবর্তী করমুডাঙ্গা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশ দেখে পালিয়ে যায় মামুন। এ সময় সে একটি কালো ব্যাগ ফেলে যায়, যাতে ৬০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে নিয়ম অনুযায়ী জব্দ তালিকা তৈরি করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
পরবর্তীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী চলতি জুলাইয়ের ৫ তারিখ মামুনকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ঘটনার প্রায় তিন মাস পর একটি স্থানীয় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে অভিযোগ তোলেন মামুনের স্ত্রী ও বাবা।
মামুনের বাবা তাইজুল ইসলাম তাজেল বলেন, “আমাদের জমি নিয়ে আলম নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। মনে হচ্ছে, তিনিই আমাদের ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। আমাদের ছেলে সিগারেটও খায় না।”
তার স্ত্রী শামসুন্নাহারও একই অভিযোগ করেন, তবে পুলিশ বা ওসির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ফাঁসানোর কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। বলেন, “তেমন কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই, শুধু ধারণা করছি।”
পাড়াতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বলেন, “এপ্রিল মাসে মামুনের বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়েছিল এবং আদালতের ওয়ারেন্ট অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি সাহেবের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে আমি কোনো প্রমাণ পাইনি। আমার মনে হয়, একটি চক্র এসব করছে।”
অভিযোগে নাম আসা আলম মৌলভী বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও মামুনকে গ্রেপ্তারে আমার কোনো ভূমিকা নেই। থানাতেও যাইনি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”
সাপাহার থানার ওসি আব্দুল আজিজ বলেন, “মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, আমরা সেটি কার্যকর করেছি। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতায় ক্ষুব্ধ কিছু অসাধু ব্যক্তি পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। করমুডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংগঠনের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর হয়ে তদবির করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করছে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে করমুডাঙ্গা এলাকায় ১৪টি মাদক মামলা রুজু হয়েছে। সক্রিয় চক্রের অনেকেই এসব মামলায় জড়িত। ফলে প্রতিশোধমূলকভাবে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তারা সক্রিয়।
মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান, পুলিশি বক্তব্য ও স্থানীয়দের মতামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মামুনকে ঘিরে পুলিশের ওপর দায় চাপানোর প্রচেষ্টার মূল কারণ জমি বিরোধ ও একটি মাদক চক্রের প্রতিশোধপরায়ণতা। ফলে ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পেছনের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।