
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : কোনো হাসপাতালে নয়, রাজশাহীর বাগমারা থানায় মরদেহ নিয়ে একটি এম্বুলেন্স আসে সকালে। তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পরিবারের অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করেন শাকিল হোসেন (২৪) ও মিতা খাতুন (১৮)। তাদের দুজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় হলেও বিয়ের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে থাকতেন তারা। গত মঙ্গলবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে মিতা আত্মহত্যা করেন বলে থানায় এসে দাবি করেন স্বামী শাকিল হোসেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে মিতাকে হত্যা করে শাকিল। এ ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ‘মারধরের ভয়ে’ স্ত্রীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গ্রামে না গিয়ে শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে বাগমারা থানায় হাজির হন শাকিল। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মিতার মরদেহ শাকিলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। মারা যাওয়া মিতা খাতুন বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে। যুবক শাকিল হোসেন একই ইউনিয়নের ভটখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের সাত মাস বয়সী এক শিশুসন্তান রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , শুক্রবার সকালে বাগমারা থানায় আসে মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় শাকিল পুলিশকে জানান, অ্যাম্বুলেন্সে তার স্ত্রীর মরদেহ রয়েছে। তিন দিন আগে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং নারায়ণগঞ্জে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শাকিলকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন, এমন আশঙ্কায় তিনি মরদেহ নিয়ে থানায় আসেন।তবে মিতার বাবা জালাল উদ্দিন জামাই শাকিলের সব কথা মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘শাকিল অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে জানতে পেরেছি। আমার মেয়েকে মেরে মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছে।’ তাকে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শাকিলকে কোনো হুমকি দেইনি। সে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এই মিথ্যাচার করছে।’এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মিতা আত্মহত্যা করেছে বলে তার স্বামী জানিয়েছে। মিতার স্বামী শাকিলকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সন্ধ্যার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জ থেকে কিছু লোক তাকে অনুসরণ করছিল, এই ভয়ে মরদেহ নিয়ে গোপনে চলে এসেছে।’ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মরদেহ পচে যাওয়ার উপক্রম। তাই দাফনের জন্য মেয়ের বাবার কাছে দেওয়া হয়। পরে দুপুরে মিতার গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রূপগঞ্জ থানায় যেহেতু অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, ফলে নতুন করে আর কোনো মামলা এখানে হয়নি। তবে শাকিলকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মিতার বাবা আলাদা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।