স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপু্র: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী- ৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থী হয়েছিলেন এডভোকেট রায়হান কাওসার। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দাখিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হলে তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক পান। তবে, তিনি নিজেই নিজের ভোটকেন্দ্রে যাননি। এমনকি নিজের ভোটাধিকারও প্রয়োগ করেননি।
প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা যায়নি তাকে। এমনকি ব্যানার ফেস্টুন পর্যন্ত টানানো হয়নি তার। নানা জল্পনার পর অবশেষে কাঙ্খিত নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট কেন্দ্রেও যাননি তিনি। এ কারণে নিজের ভোটটাও তার মোটরসাইকেল প্রতীকে দেয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় শেষ হবার পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নিজ এলাকার ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই কৌতুহলবশত মন্তব্য করেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের মতো একটি নির্বাচনে এমন আজব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তারা কখনোই দেখেননি। যিনি নিজের ভোট নিজেই পাননি।
সাধারণ মানুষের কাছে বিনোদনের খোরাক হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এডভোকেট রায়হান কাওসার দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের হাড়িয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। পেশা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে বাস্তবিক অর্থেই তিনি আইনজীবী কিনা এ বিষয়ে সন্দিহান তার নিজ গ্রামের মানুষ।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে এক ধরনের লুকোচুরি করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রতীক বরাদ্দের দিনে তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক পান। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে সংসদীয় এলাকায় মাঠে-ঘাটে গণসংযোগ না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ছিলেন। মাঝেমধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে এলাকার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে নানা রকমের বুলি আওড়াতেন। এলাকার উন্নয়নে রাত জেগে স্বপ্ন দেখতেন। এলাকার মানুষকেও সেই স্বপ্নে বিভোর ঘুম পাড়াতেন।
এদিকে, রায়হান কাওসারের সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে এলাকার ঘুমকাতুরে মানুষগুলো আকস্মিক ঘুম ভাঙ্গার পরে দেখেন ১২ ফেব্রুয়ারি সেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের দিন। কিন্তু নির্বাচনের দিনে নিজের কেন্দ্রেই উপস্থিত হননি সংসদ সদস্য প্রার্থী রায়হান কাওসার। এমনকি নিজের ভোটটিও নিজের প্রতীকে দিতে পারেননি নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত এই সংসদ সদস্য প্রার্থী রায়হান কাওসার। নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত তার নিজ গ্রামবাসী এবং এলাকার মানুষজন ভেবেছিলেন হয়তো তিনি ভোট কেন্দ্রে আসবেন। ভোটাররা তাকে ভোট দিক বা না দিক নিজের ভোটটি অন্তত তিনি নিজের প্রতীকে দেবেন। কিন্তু না আজব এই সংসদ সদস্য প্রার্থী তার ভোটকেন্দ্র্রীয় যাননি এমনকি নিজের ভোটটিও তিনি তার প্রতীকে দেননি। সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা প্রথমদিকে ভেবেছিলেন হয়তো তারা রায়হান কাওসারের দেখানো স্বপ্নে বিভোর হয়ে এখনো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু ঘুমের ঘোর কেটে যাওয়ার পর এবং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভোটাররা ও সাধারণ মানুষ হিতাহিত জ্ঞান ফিরে পেয়ে উপলব্ধি করেন, সত্যি সত্যিই সংসদ সদস্য প্রার্থী রায়হান কাওসার ভোটকেন্দ্রেও যাননি। এমনকি নিজের ভোটটিও নিজের প্রতীকে দেননি।
দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ আসন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। আর কেন্দ্র রয়েছে ১৩২টি। নিজ ভোট কেন্দ্রে না গেলেও কিংবা রায়হান কাওসার নিজেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলেও তার দেখানো স্বপ্নে বিভোর ১১ জন হৃদয়বান ভোটার তাকে ভোট দিয়েছেন। নিজ কেন্দ্র ছাড়াও দুই উপজেলার ১৩১টি কেন্দ্রে আওয়ামী ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার ভোট পেয়েছেন প্রায় ৩০০।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট রায়হান কাওসার বলেন, কোনরকম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই আমি এতো ভোট পাবো কল্পনাও করিনি। যে নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীরা কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেখানে আমি কোন ধরনের প্রচার-প্রচারণা না করে কিংবা খরচাপাতি না করে এই ভোট পাবো তা ভাবতেই অবাক লাগছে।
ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া এবং নিজের ভোট নিজে না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তীতে ব্যাখ্যা দিবেন।