
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী রাজশাহীর পুঠিয়ায় গুটি জাতের আম দিয়ে শুরু হয়েছে এই মৌসুমের আমের বেচা কেনা। এবার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আম বেচা কেনার আশা করছেন রাজশাহী অঞ্চলের চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অন্যান্য বারের চেয়ে উৎপাদন খরচ এবার বেশি। তাই দাম কম থাকায় লকশানের আশংকা করছেন আম চাষিরা।
সুমিষ্ট জাতের আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন । ২০ মে থেকে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, লখনা এবং রাণীপছন্দ। ৩০ মে থেকে নামবে হিমসাগর। কিন্তু জেলা প্রশাসনের বেধে দেওয়া ম্যাংগো ক্যালেন্ডারের নির্দেশনা না মেনে সময়ের আগেই নামানো হচ্ছে অনেক আম।
রাজশাহীর সুমিষ্ট আমের ব্যাপক কদর থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। গত বারের চেয়ে আমের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে বলেও জানান ঢাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন। তিনি আরও বলেন এখনও আমের দাম কম রয়েছে। তবে ঈদের পরে আম বেশি আমদানি হলে এবং ব্যবসায়ী আরও আসলে দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।
তবে অনেকে অভিযোগ করে বলেন জেলা প্রশাসনের বেধে দেওয়া সময়ের আগে গাছ থেকে আম নামালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সময়ের আগেই নামানো হচ্ছে অনেক জাতের আম । কিন্তু এ বিষয়ে কৃষি অফিস বা প্রশাসন কোন ধরেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই যারা অনলাইনে খাবার জন্য আম কিনছে তাদের আম ভালো করে পাকছে না নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই সময়ের আগেই আম যাতে না নামানো হয় সে দিকে নজর দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম নুর হোসেন নির্ঝর বলেন, প্রশাসনের ক্যালেন্ডারের দুুই এক সপ্তাহ আগে আম নামাতে পারে, সে ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের অনুমতি নিতে হবে। যে আমার আম পেকে যাচ্ছে কৃষি অফিসার অনুমতি দিলে সেক্ষেত্রে আম নামাতে পারবে। তাছাড়া আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবো।
চলতি বছর ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।