নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর মান্দায় এক যুবককে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে গুলির ঘটনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন ভুক্তভোগী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী সাফি আল জাবের ওরফে নিরব (৩১) বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলাটি করেন। নিরব উপজেলার কশব ইউনিয়নের তুড়ুকবাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান মাঝির ছেলে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার সময় তেগাড়া গ্রামের বিশ্ববাঁধসংলগ্ন সাবেরেরভিটা এলাকায় নিরবের পথরোধ করেন কয়েকজন যুবক। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।
মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন তুড়ুকবাড়িয়া এলাকার আহম্মেদ আলী আকন্দের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৪), জিয়াউর রহমানের ছেলে পারভেজ হোসেন (২৭) এবং ফিরোজ হোসেনের ছেলে ফয়সাল মাহমুদ রোকন (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় পরপর তিনটি গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। খবর পেয়ে রাতেই মান্দা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রাম পুলিশ শাহাবুদ্দীনের ছেলে শরিফ উদ্দিনকে (২২) হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় সুলতান ও পারভেজ গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বেরিয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের একাধিক মামলা নওগাঁ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী সাফি আল জাবের বলেন, গুলি ছোড়ার ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন তিনি।
মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলেফ উদ্দিন বলেন, যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয়দের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।