মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৭০-৮০ জন সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতার প্রার্থিতা শতভাগ নিশ্চিত।
নিউজ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়েই কার্যত শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী ট্রেনের যাত্রা। ইতোমধ্যে বিএনপির ভেতরে মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। কেউ মাঠে নেমে প্রচার শুরু করেছেন, কেউ আবার হাইকমান্ডের ‘সবুজ সংকেত’ পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বড় দলের বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর স্মরণকালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভোটারদের কদর এতটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, যা প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। সঠিক প্রার্থী নির্বাচন না হলে প্রত্যাশিত ফলাফল উল্টে যেতে পারে।
বড় দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্বও অনেক। অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে ঐক্য ধরে রেখে আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের নিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া এবং নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ দলটিকে রাজনীতির “অভিভাবক” পর্যায়ে দাঁড় করিয়েছে।
জরিপে প্রার্থী যাচাই-বাছাই
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকছে-এটাই স্বাভাবিক। প্রার্থী ঠিক করতে ইতোমধ্যে দুটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, চলছে তৃতীয় দফা জরিপ। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৭০-৮০ জন সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতার প্রার্থিতা শতভাগ নিশ্চিত। বাকিদের ক্ষেত্রে জরিপের ফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড।
এছাড়া আন্দোলনে দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে থাকা সমমনা দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন আগের মতো গতানুগতিক হবে না। ভোটাররা শুধু দলীয় প্রতীক দেখে ভোট দেবেন না, বরং প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সততা, নেতৃত্বগুণ ও গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের আন্দোলনে প্রার্থীর ভূমিকা ভোটারদের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় প্রভাব ফেলবে। প্রার্থিতা নির্ধারণে পেশিশক্তি বা অর্থবল নয়, বরং গণমানুষ ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং রাজপথের আন্দোলনের ভূমিকা বেশি গুরুত্ব পাবে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সারাদেশের সব আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার ত্যাগী ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রার্থী করা হবে।
ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সহনশীলতার মধ্যে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে, যাতে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে।