
নিউজ ডেস্ক : বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সংস্কারবিরোধী’ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে এবং ভিশন-২০৩০, ২৭ দফা ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে তা প্রমাণ করেছে।
রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা। বিএনপি বরাবরই গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে ভিশন-২০৩০ ঘোষণায় সংস্কারের কথা বলেন। এরপর ২০২২ সালে ২৭ দফা ও ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে দেশে নানা সভা-সেমিনারও করেছে বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে বক্তব্য
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করি ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন চায়।” তিনি বলেন, বিএনপি বিপ্লব নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।
এনসিসি ও মেয়াদ নির্ধারণ প্রসঙ্গ
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব বিএনপির। তবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণের নামে নতুন কোনো অঙ্গসংগঠন আমরা সমর্থন করি না।” তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, সাংবিধানিক বিষয়গুলোতে জাতীয় ঐকমত্য সম্ভব।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে মত
প্রচারিত সংখ্যানুপাতিক ভোট (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “পিআর একটি ধারণা, কিন্তু কীভাবে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। এখনো এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। জনগণের মতামত ও রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”
বিএনপির দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বিএনপিই করেছে। আর সেই দলকে ‘সংস্কারবিরোধী’ বলা অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।