নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা জুড়ে মাদকের রমরমা কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঠিয়া এবং বেলপুকুর দুই থানা এলাকায় মাদককারবারিরা বেপরোয়া হয়েছে। ৭ জানুয়ারি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পাশের্ববর্তী এলাকায় সরদার পাড়ায় মাহাবুর নামের এক ব্যক্তি মাদক সেবন করে মারাও গিয়েছে। মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওযায় চুরির সংখ্যাও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী র্যাব-৫ আদিবাসী পাড়ায় অভিযান চালানোর পর কয়েকদিন চোলাই মদ তৈরি বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার পূর্বের মতো প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করা হচ্ছে। নতুন কায়দায় চোলাই মদ বিক্রি হচ্ছে। তা হলো, বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকা কমল পানির বোতল সংগ্রহ করে তার ভিতরে চোলাই মদ ঢোকায়ে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা একাধিকবার মৌখিক থানায় অভিযোগ দিয়ে কোনো সুরাহা পাচ্ছে না। চোলাই মদ সেবন করে অনেকে বেহুস হয়ে যেখানে সেখানে পরে থাকতে দেখা যায়। আবার কেউ মদ সেবন করতে এসে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। থানা হতে আদিবাসি পাড়ার দুরত্ব মাত্র প্রায় ৬শত মিটার হবে। রাজশাহী হতে র্যাব এসে আদিবাসী পাড়ায় অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্ত থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তার সেখানে চুপ হয়ে রয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের খলিফা পাড়ায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদককারবারি প্রকাশ্য মাদক কেনাবেচা করছে। এছাড়াও মোলা পাড়া, কান্দ্রা গুচ্ছুগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট এলাকা, পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, ঝলমলিয়া বাজার, বেলপুকুর থানা এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম নিস্ক্রিয় হয়ে থাকায় মাদকারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আদিবাসী পাড়ার স্থানীয়রা জানায়, প্রতিটি মাদককারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য কর্মকর্তার এবং পুলিশের কিছু সদস্যের সমঝোতা রয়েছে। তারপর আদিবাসীপাড়ায় বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ক্যাডার চোলাই মদের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জুড়ে হাত বাড়ালেই ফেনসিডিল ইয়াবা ইরোইন গাঁজা চোলাই মদ পাওয়া যায়।
সংশিষ্ট মাদক বিক্রেতা বলছে, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকতার্দের সঙ্গে চুক্তি করে তারা মাদক কারবার করে আসছে। চুক্তি না করলে একদিনও মাদককারবার করা সম্ভব না। রাজশাহী জেলা পুলিশের একটি গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের উপঢোকন নেওয়ার জন্য মাদক কারবারিরা বাধাহীনভাবে সবস্থানে মাদক কেনাবেচা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্যের পুঠিয়া সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, আদিবাসী পাড়ায় আমরা অভিযানে গেলে চোলাই মদ তৈরি করার কোনো আলামত পায় না। মদ তৈরিকারীরা আগে থেকে কিভাবে যেন বুঝতে পরে। তারপর তারা সাবধান হয়ে যায়। আদিবাসীপাড়া থানার পাশে তারা। থানা একটু কঠোর হলে আদিবাসীপাড়ায় চোলাই মদ তৈরি করতে পারবে না। তারপর, আমাদের লোকবল অতি সামান্য হওয়ার জন্য আমরা ঘনঘন অভিযান করতে পারচ্ছি না।