নাটোর প্রতিনিধি: সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সমাজে নারীদের একটি বিশেষ অবস্থানে পৌছানো পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড চালু রাখা হবে। প্রক্সিমিটি টেস্টের মাধ্যমে স্কোরিং ভিত্তিতে এই মুহূর্তে হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত এই তিনটি সেক্টরের কাছে কার্ড পৌঁছানো হবে। ধাপে ধাপে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরাও পাবেন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা। তাদের মধ্যে যারা কার্ডের যোগ্য হওয়া সত্বেও তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবো, রাষ্ট্র তাদের আলাদাভাবে সম্মানিত করবে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর সার্কিট হাউজে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
ব্যারিস্টার পুতুল বলেন, সাত দিন বয়স বর্তমান সরকারের। এই সময়ের মধ্যে যে গতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ শুরু করেছেন, আগামী ৫ বছরে আমাদের কর্মস্পৃহা আরো বৃদ্ধি পাবে। সরকার প্রত্যাশা করে দেশের মানুষের কল্যানে প্রতিটি কর্মসূচিতে সরকারের পাশে থাকবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন,
আমরা বিগত সময়গুলোতে দেখেছি আমাদের যে কার্ডগুলো আছে, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, কৃষি, গর্ভবতী ভাতা কার্ড আছে এই কার্ডগুলো ডিস্ট্রিবিউশন লেভেলে গিয়ে অনেক ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। অনেক সময় দেখা গেছে, যাদের মাধ্যমে এই কার্ডগুলো ডিস্ট্রিবিউশন হতো তারা অনেক সময় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা চাইত। এই বিষয়গুলো বন্ধ করার জন্য আমরা পর্যায়ক্রমে ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমে এগোবো। যেন সব কার্ড নিয়ে একটি কার্ড করা যায়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু ফ্যামিলি কার্ডে যে অ্যামাউন্ট দেওয়া হবে আড়াই হাজার টাকা এটা বিদ্যমান অন্যান্য কার্ডগুলো থেকে অনেক বেশি। তাই সুবিধাভোগীরা ওটাই নিতে চাইবেন। যারা কার্ড পাবেন, তারা ইচ্ছে করলে ব্যাংক একাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও কার্ডের টাকা নিতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নাটোর গড়তে যা প্রয়োজন, তাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে একার পক্ষে সব উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে।”
পুতুল বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান এই জেলায় কৃষির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশে কৃষি সমৃদ্ধি বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। এই উন্নয়ন কার্যক্রম একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য সময় প্রয়োজন। আমি জনগণের সেবক হিসেবে জীবনের বাকি সময় আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করে যেতে চাই।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, আমি নাটোর-১ আসনের এমপি হলেও সমগ্র জেলা থেকে মন্ত্রীপরিষদের প্রতিনিধি। শুধু আমার নিজ নির্বাচনী এলাকা নয়, নাটোরের বাকী ৩টি আসনের উন্নয়নের জন্য যা কিছু করণীয় আমার সামর্থ্যের মধ্যে থাকবে, আমি সব কিছুই করবো।
আমার সাথে বা আমার পাশে থাকা কেউ যদি কোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেলে আমার সহযোগিতা থাকবে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী পুতুল নাটোর সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে অংশ নেন তিনি।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত, নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ আদনান, সিভিল সার্জন ডা. মোক্তাদির আরেফিনসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।