নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এ শুরু হচ্ছে। অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্পিকার নির্বাচন দিয়ে শুরু
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, যিনি স্পিকার নির্বাচনী সেশন পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি দল থেকে স্পিকার এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পিকার নির্বাচনের পর প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি থাকবে এবং এরপর নবনির্বাচিত স্পিকারকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শোক প্রস্তাব ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
প্রথম দিনেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এতে গুরুত্ব পাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণ।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তি
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সংসদের গঠন ও রাজনৈতিক চিত্র
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদ ইসলাম, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক।
ট্রাফিক নির্দেশনা
সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। অধিবেশন চলাকালে মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট এবং আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, নতুন সংসদের এই প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হতে পারে এবং তা এপ্রিল পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।