
প্রিন্স ভূঁইয়া, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অপ্রতুল বেড সংখ্যা, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এমনই অবস্থা ছিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আশাদুজ্জামানের প্রচেষ্টায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র। সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা । রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।
৫০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালে এখন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সেবা দিচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য পদে কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যাও এখন আগের তুলনায় বেশি।
সরকারি এ হাসপাতালটিতে বর্তমানে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীদের অনেক ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। শুধু প্রসূতি মায়ের চিকিৎসাই নয়, স্বাভাবিক ডেলিভারি হচ্ছেই। তাই পার্শ্ববর্তী লালপুর, বাগাতিপাড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসেবা গ্রহণ করে থাকেন প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার গুণগত মান বাড়াতে এবং হাসপাতালে কর্মরতদের নিরাপত্তা বিধান করার পাশাপাশি সেবা কর্মকান্ড মনিটরিং করতে হাসপাতালকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসেন। তার এই উদ্যোগের ফলে হাসপাতালে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবার পাশাপাশি বেড়েছে সেবার মান, দ্রুততম সময়ে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে,রোগীদের হয়রানি কমেছে অনেকাংশে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিসংখ্যান বিভাগ সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩১ শয্যার বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্টসহ মুঞ্জুরিকৃত চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২৭জন। মিডওয়াফারি ৪জন সহ বর্তমানে কর্মরত নার্স রয়েছে ১৮ জন। ২/৪টি বাদে চিকিৎসক নার্সের সংখ্যা আগের তুলনায় এখন বেশি।
সরেজমিন দেখা গেছে, শয্যার অভাবে অনেক রোগীকে আন্তঃবিভাগের বারান্দায় বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, আসার পর সেবার ধরন দেখে তারা হতবাক! আগে জানতেন সরকারি হাসপাতালে সেবা নেই। এখন দেখেন তার উল্টো।
রেহেনা বেগম নামের এক রোগী জানান, এখানে আসার পর তেমন কোন ওষুধ তাকে বাইরে থেকে কিনতে হয়নি। সময়মতো তারাই (নার্সরা) ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশাদুজ্জামান জানান, চার মাস আসে আমি এখানে যোগদানের পর প্রধান ফলোক থেকে শুরু করে জরুরী বিভাগ আউটডোর বজ্র ব্যবস্থাপনা নির্মাণ ওগন টয়লেট স্থাপনা, জরুরী বিভাগ, ইনডোর-আউটডোর ও ক্যাবিন, ডায়াবেটিকস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে আউটডোরে ও চিকিৎসা প্রদান, প্রেসারের ডায়াবেটিকস রোগীর জন্য এনসিডি কর্নার, জনসচেতনার জন্য এলসিডি মনিটর স্থাপনা, আবাসিক এলাকা পরিষ্কার করে আলোয় আলোকিত করা হয়েছে। আউটডোরে চিকিৎসা প্রদান করছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার । মা ও শিশুদের জন্য এ এন সি কর্নার। আগের তুলনায় বর্তমানে নরমাল ডেলিভারির হার অনেক বেশি। এছাড়াও নিজের অর্থায়নে আইপিএস ব্যবস্থা করেছি। চেষ্টা করছি প্রাইভেট হাসপাতালমুখী রোগীদের ফিরিয়ে আনতে। আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তরের চেষ্টা করছি।পর্যাপ্ত জনবল থাকলে আমাদের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও জানান বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়াতে আমাকে সবসময় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন রাজশাহী জেলার সুযোগ্য সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক, স্যারের সুযোগ্য নেতৃত্বে, সঠিক পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী জেলার স্বাস্থ্য খাত, তারই ধারাবাহিকতায় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বেড়েছে। আমি সিভিল সার্জন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাাশ করছি, স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য।