নিজস্ব প্রতিবেদক : জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগে পৃথক মামলায় দুই নারীকে জরিমানা ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জয়পুরহাটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২য় আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এদিন আদালতে আসামী পরীক্ষা ও যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিলো।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআর ৩৮/২১ (আক্কেলপুর) মামলায় বাদী নুদার সুলতানা লিজা আরজিতে অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী মাহফুজুর রহমান ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং পরে বৈঠক বসিয়েও একই দাবি তোলেন। তবে মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। আসামী বাদীকে নিতে ১০০ ধারায় আদালতে মামলা করেছিলেন। কিন্তু বাদী স্বেচ্ছায় স্বামীর কাছে না গিয়ে পিতার বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। লিগ্যাল এইড অফিস থেকেও আপোষের ডাক পেলেও তিনি যাননি। পরে তালাকের তারিখের পর মিথ্যা গল্প সাজিয়ে মামলা দায়ের করেন, যা বাদীর পিতাও আইনজীবীর জেরায় আদালতে স্বীকার করেন। তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে মামলাটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আসামীকে খালাস এবং বাদীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
অপরদিকে, একই আদালতে সিআর ২৭৯/২৩ (পাঁচবিবি) নম্বরের আরেকটি মামলার আরজিতে বাদী হানিফা খাতুন অভিযোগ করেন, ১ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয় বাদী যাকে দিয়ে আসামীকে ডাকার কথা বলেছিলেন, তিনি আদালতে জবানবন্দিতে তা অস্বীকার করেন। এছাড়া কথিত গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের বিষয়েও বাদীর পিতা ও ভাই কোনো সাক্ষ্য দেননি। আদালত অভিযোগকে মনগড়া ও ভিত্তিহীন মনে করে আসামীকে খালাস দেন এবং বাদীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী বেগম রিনাত ফেরদৌসী রিনি জানান, পৃথক দুটি মামলার আরজিতে উপস্থাপিত ঘটনা সাক্ষ্যপ্রমাণে মিথ্যা বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়। বিজ্ঞ আদালতের এই রায় আদালত পাড়ায় ভূয়সী প্রশংসার দাবি রাখে। তাছাড়া আদালতের এই যুগান্তকারী রায় মিথ্যা মামলার দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি সহ সাধারণ মানুষকে হয়রানির প্রবণতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।