
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চারঘাটে ভূমি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া এখানে কোনো কাজ সম্ভব নয় এবং ঘুষ ছাড়া একটি ফাইলও নড়চড় হয় না। এসব অনিয়মের ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ গেজেটে ‘ভিপি ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি চারঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় গোপনে ২০১২ সালে প্রকাশিত ভেস্টেড প্রপার্টির (ভিপি) একটি জমিকে ২০২২ সালে হোল্ডিং অনুমোদন দিয়ে খাজনার কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়।
জানা গেছে, জমিটি চারঘাট মৌজার আরএস ৩৬৬ নম্বর দাগে অবস্থিত। গেজেটের ৮৩৭৩ নম্বর পাতার ৩৯ নম্বর ক্রমিকে এসএ ৫৬৯ ও আরএস ৫৩৬ নম্বর দাগে ০.০৫ শতক জমি ভিপি তালিকাভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এক তহশীলদার ওই গেজেট পাতায় লাল কালি দিয়ে লেখা ‘ফ্লুইড’ দিয়ে মুছে দিয়ে হোল্ডিং অনুমোদন দেন এবং দাখিলা নম্বর ৮১২৫২৪০৩৫৪১৯ প্রদান করেন।
এই দাখিলা ব্যবহার করে মুনজুর পিং আশরাফ নামীয় এক ব্যক্তি জমিটি নিজের দাবি করে জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখা থেকে ১১,২১,৯৬৫ টাকা উত্তোলন করেন (চেক নম্বর: ০৮৩২৯২৮, তারিখ: ২০/০৪/২০২৫, এল.কেস নম্বর: ০৯/২০২১-২০২২)। যদিও তিনি সাংবাদিকদের জানান, “অধিগ্রহণের টাকার জন্য আবেদন করেছি, এখনো টাকা পাইনি।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একাধিক দালাল সক্রিয়ভাবে ভূমি সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব দালাল চক্র সরকারী কর্মচারীর মতোই ফাইল-পত্র নাড়াচাড়া করে এবং ভুল তথ্য সংযোজন করে পরে তা সংশোধনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ভূমি অফিসে নামজারি, মিসকেস, খতিয়ান ও খাজনার মতো সাধারণ কাজেও অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে চারঘাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার জানান, “ভিপি তালিকাভুক্ত জমিটির অনলাইন হোল্ডিং ২০২২ সাল থেকে চালু ছিল। ফ্লুইড ব্যবহারের অভিযোগ সত্য নয়। তবে গত ১৫ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেনের নির্দেশে হোল্ডিং বাতিল করা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।